মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি:
মাগুরায় পূর্বশত্রুতার জেরে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে মো. মমিন মিয়া (৪৫) নামে এক সরকারি কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় মমিন মিয়ার কাছে থাকা মসজিদের রড কেনার জন্য নেওয়া নগদ ৫ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়নের ধলহারা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মমিন মিয়া মহম্মদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি চাউলিয়া ইউনিয়নের বলেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মমিন মিয়ার অভিযোগ, মসজিদের রড কেনার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে করে সত্যজিৎপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মোছা. সফুরা খাতুন (৩৯), মেয়ে মোছা. মাখসুরা খাতুন (১৬) ও ছেলে মো. মেজবাউল আলিম (৮)।
পথে ধলহারা পশ্চিমপাড়ায় ইউসুফের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে মুখ বাঁধা ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের মধ্যে ধলহারা পশ্চিমপাড়ার রাজু (২৫), মারুফ মিয়া (৩০) ও রিফাত (১৯) ছিলেন বলে মমিন মিয়ার অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল থামানোর পর ওই তিনজন মমিন মিয়াকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও মারধর করা হয়। হামলায় মমিন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মমিন মিয়ার দাবি, হামলাকারীরা তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। একই সময় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাগুরা সদর থানার প্রাথমিক তথ্যমতে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।