মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

শালিখায় শিক্ষা অফিসে ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৯১৪ বার পঠিত

শালিখা মাগুরা প্রতিনিধি:

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানম, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সায়েম খান, এবং অফিস সহায়ক রাকিব হোসেন–এর নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে অনুসন্ধান করে তথ্য যাচাই করা হয়।

শিক্ষা অফিসে ফাইল নিষ্পত্তিতে নিয়মিত ঘুষ নেওয়া হয় মর্মে সঠিকভাবে কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষক জানান টিইও ম্যাডামের বিরুদ্ধে কিছু ঘুষের অভিযোগ উঠেছে তবে লিখিত কোন প্রমাণ আমরা দেখিনি।

প্রকাশিত দাবি:

প্রতিটি ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ১–২ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।

এই দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অভিযোগ, রসিদ বা নথিভিত্তিক প্রমাণ অনুসন্ধানকারী খুঁজে পাইনি।

প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করা কঠিন। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ভোটকেন্দ্র মেরামতের বিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে মর্মে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার ভিত্তিতে দেখা যায়,

বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া সাধারণত একাধিক প্রশাসনিক ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেদনে ৫১টি স্কুলের নাম উল্লেখ করা হলোও কার্যত ২১টি স্কুলে বরাদ্দ এসেছিল । এ বিষয়ে উল্লেখিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন বিল পাশের ক্ষেত্রে এটিইও আবু সায়েম খানের কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং যখন বিল পাস হয় উনি তখন  ময়মনসিংহে ট্রেনিং এ ছিলেন। এ বিষয়ে জনাব মাহমুদা খাতুন প্রধান শিক্ষক দড়ি শলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বলেন আমার বিদ্যালয়ে বরাদ্দ এসেছে এবং বরাদ্দ অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি আমি কোন প্রকার ঘুষ লেনদেন করি নাই এবং আমাদের অফিসার আবু সায়েম বিশ্বাস এই বিলের সাথে কোন রকম সম্পৃক্ততা নেই। উনি একজন সৎ নির্ভীক ও দায়িত্বশীল অফিসার। উনাকে ফাঁসানোর জন্য একটি মহল এ কাজ করেছে। জনাব সৈয়দ অঞ্জন আলী প্রধান শিক্ষক খাটর রামানন্দকাটি বলেন আমার বিদ্যালয় বরাদ্দ এসেছে। আমি শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি হিসেবে  অকপটে বলছি এ বিষয়ে জনাব আবু সায়েম খানের কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং আমরা এই বিল ভাউচার তৈরি করে উত্তোলন করেছি। মধুখালী স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন আমার বিদ্যালয়ের বরাদ্দ এসেছে।স্যার খুব দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন নির্বাচনকালীন সময়ে। ইউএনও স্যারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। খুবই ভালো মানুষ। তাকে যারা জড়িত করেছে তারা মিথ্যাবাদী। আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুকুরিয়া স্কুলের সোলায়মান হোসেন জানান আমার বিদ্যালয় বরাদ্দ পেয়েছে। আমরা ৩-৪ জন মিলে এই বিল উত্তোলন করেছি। এর সাথে সায়েম স্যারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। উনি সৎ নির্ভীক দুর্নীতির বিপক্ষের একজন মানুষ। একটি স্বার্থন্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে লেগেছে যেন শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ব্যাঘাত ঘটে এবং সুন্দরভাবে চলতে না পারে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জনাব ইয়াসমিন আক্তার প্রধান শিক্ষক আরপাড়া মডেল জানান আবু সায়েম স্যার আমাদের ক্লাস্টার অফিসার। দীর্ঘদিন থেকে তাকে আমরা চিনি ও জানি। তিনি ঘুষ, দুর্নীতি এবং সকল প্রকার অনিয়মের প্রতিবাদ করেন। এই প্রতিবাদের কারণেই তার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য তাকে জড়িত করেছে। প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি এবং তার পরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছি। তিনি আরো বলেন ১০২ টা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার মতো একজন বিনয়ী নম্র ভদ্র মানুষের সামাজিকভাবে যে হেও করা হয়েছে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই। এবং যাহারা এই মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে  কঠিন শাস্তি দেয়া হোক। এ বিষয়ে এটিইও শাহরিয়ার রুমি বলেন সায়েম ভাই একজন সৎ দায়িত্বশীল ও দক্ষ এটিইও। মাগুরা থাকাকালীন উনি সমস্ত কাজ করতেন এবং জেলার সমস্ত কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করতেন। উনার মত একজন মানুষের বিপক্ষে যারা এগুলো করেছে তারা সত্যিও ঘৃণিত। অফিস সহকারি সমীর কুমার বলেন সায়েম স্যার এই অফিসের সকল কাজ করে থাকেন। টিইও হেনায়ারা খানম বেশিরভাগ সময় ছুটিতে থাকেন। ওনার অনুপস্থিতিতে সায়েম স্যার অফিসের সকল দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যে বা যাহারা এটা করেছে তারা এই অফিসকে ধ্বংস করার জন্য করেছে।

কোনো শিক্ষক আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কি না তা অফিস থেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের কাছে কোনো শিক্ষক কোন যুক্তি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারিনি।

অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পেনশন ফাইল জমা দিতে ২০০০/-টাকা ঘুষ নেয়া হয়েছে। উক্ত শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আবু সায়েম স্যার এর সাথে জড়িত নেই। কে বা কাহারা তাকে আমার ঘটনার সাথে জড়িত করেছে আমি জানিনা। তবে আমার পেনশন ফাইল পাস করার জন্য আমি কিছু টাকা দিয়েছি। এ বিষয়ে পিয়ন রাকিব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে উনি বলেন বিরাম সিকদার প্রধান শিক্ষক আমার কাছে ৫০০ টাকা দিয়ে বলেন ম্যাডামকে দিতে কিসের টাকা বা কেন দিয়েছেন তা আমি জানিনা। এ বিষয়ে সায়েম স্যার জানে কিনা জানতে চাইলে রাকিব হোসেন বলেন স্যার অত্যন্ত ভালো মানুষ। অফিসের কাজ করেন। বৃহস্পতিবার অফিসের মিটিংয়ে স্যার ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন। বলেন এই অফিসে কোন ঘুষ চলবে না। ফাইল আসার সাথে সাথে সই করে দিতে হবে। এরপর শুক্র শনি রবিবারের দিন অফিসে এসে জানতে পারি স্যারের নামে রিপোর্ট করা হয়েছে।

অভিযোগটি মূলত মৌখিক বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে উল্লেখ করা হয়েছে।কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাক্ষ্য নথি নেই।মৃত শিক্ষকের ফাইলেও অর্থ নেওয়া হয়েছে । শিক্ষক এর সন্তানের কাছে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দিতে রাজি হননি।

অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না।এটি একটি সাধারণ মন্তব্য, নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ নয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর