রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের তরুণ বাইকার পিয়াল বাইকিং জগতে নতুন নাম নয়। তিনি বাংলাদেশের উত্তর প্রান্ত তেতুলিয়া থেকে দক্ষিণ প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ বাইক রাইড সম্পন্ন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতাতেই তিনি এবার সফলভাবে তার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক মোটরবাইক ট্যুর শেষ করলেন। গত ১৭ ডিসেম্বর (২০২৫) থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৪ দিনের এই রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার বাইক ট্যুরে পিয়াল বাংলাদেশ থেকে নেপাল পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। এই ট্যুরে পিয়ালের সঙ্গে পার্টনার হিসেবে ছিলেন শোহান মিয়া। তারা দুজনেই Yamaha FZS V3 মোটরবাইক নিয়ে নেপালের বিভিন্ন দুর্গম ও পাহাড়ি রাস্তায় রাইড করেন। ট্যুর চলাকালীন তারা নেপালের গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় স্থান—কাঠমান্ডু, থামেল, পোখারা, মানাং, মুস্তাং ও মুক্তিনাথ ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মুস্তাং জেলার মুক্তিনাথ, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৮০০ মিটার (১২,৪৬৪ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এবং থোরং লা পাসের নিকটবর্তী একটি পবিত্র ও দুর্গম এলাকা। এই সফরে প্রচণ্ড শীত ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দিয়েও রাইড করতে হয় তাদের। অনেক জায়গায় বিশাল বিশাল পাহাড় বরফে ঢাকা ছিল, ঠান্ডা বাতাস ও তুষারাচ্ছন্ন পরিবেশে বাইক চালানো ছিল অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। পাহাড়ি নদীর ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ অতিক্রম, ভয়ংকর ও ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে রাইড, রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি পথে মোটরবাইক চালানো—সব মিলিয়ে এই ট্যুর ছিল চরম রোমাঞ্চ ও চ্যালেঞ্জে ভরপুর। পিয়াল জানান, নেপালের অনেক রাস্তা এতটাই কঠিন যে একে সহজভাবে “নেপালের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মোটরেবল রোড” বলা যায়। তিনি আরও বলেন, নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি পথ এবং সেখানকার মানুষের আন্তরিক ব্যবহার এই সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। এই সফল আন্তর্জাতিক বাইক ট্যুরের জন্য পিয়াল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন Yamaha Motorcycle Bangladesh ও SR Orion Motors-এর প্রতি। পাশাপাশি তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান সুব্রত স্যার, তানভীর ভাইয়া, সুজন ভাইয়া, রিফাত ভাইয়া এবং YRC যশোর টিম-কে, যাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ ছাড়া এই ট্যুর সম্ভব হতো না। এই ধরনের আন্তর্জাতিক বাইক ট্যুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাইকপ্রেমীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।