মাগুরা প্রতিনিধি-
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে আজ রবিবার (০৮ ডিসেম্বর ২০২৫) মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলার, সার-কীটনাশকের সাব ডিলার, বীজ, ফার্মেসি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসমূহে তদারকি করা হয়।
অভিযানে প্রথমে মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজ—বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। কৃষক ও সাব-ডিলারদের অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলেও সঠিকভাবে ভাউচার প্রদান করত না। এছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টার আগে দোকান না খোলায় কৃষকদের অতিরিক্ত দামে খুচরা দোকান থেকে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়।
রেজিস্টার ও ভাউচার যাচাই করে দেখা যায় বেশি দামে সার বিক্রয়,ভাউচার ও রেজিস্টারে গরমিল,কৃষকদের ভাউচার না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভাউচার প্রস্তুত,
সরকারি দামের চেয়ে বেশি মূল্যে ডিএপি বিক্রি,র্যাকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মজুদ রাখা।
রেজিস্টার দেখে ফোনে যোগাযোগ করলে কৃষক তবিবার জানান, তিনি ৭ ডিসেম্বর ৪ বস্তা ডিএপি কিনেছেন ১৩৫০ টাকা দরে; কিন্তু ভাউচার পাননি। অথচ তার নামে সরকারি দামে ইউরিয়া–ডিএপি–এমওপি মিলিয়ে ৫ বস্তার ভাউচার তৈরি করা হয়েছে।
আরেক কৃষক রাতুল জানান, তিনি ১৫ কেজি পটাশ নিলেও ভাউচারে লেখা ৫০ কেজি; ইউরিয়া ১ বস্তা নিয়েও ভাউচারে দেখানো হয়েছে ২ বস্তা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এবং কাগজপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিলন কুমার ঘোষ তার অপরাধ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০, ৪৫ ও ৫১ ধারায় মোট ১,৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডার্স নামের এক সাব-ডিলার প্রতিষ্ঠানে তদারকি করে ভাউচার সংরক্ষণ না করা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রয়ের অপরাধে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
মোট ২টি প্রতিষ্ঠানকে ১,৫৫,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
এরপর অন্যান্য নিত্যপণ্যের দোকানেও তদারকি করা হয় এবং সবাইকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ভাউচার সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো: রবিউল ইসলাম, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, মাগুরা এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের এ ধরণের অভিযান চলমান থাকবে।