সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়ের উদ্যোগে মাগুরার  তরুণ নার্স শাহরিয়া  সিজান

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৯ বার পঠিত

শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি –

বাংলাদেশের সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করার সময় প্রতিদিন এক দৃশ্য বারবার চোখে পড়ত রেজিস্টার্ড নার্স শাহরিয়া সিজান–ডায়রিয়া ও লুজ মোশনে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে ভর্তি ওয়ার্ড। বারবার একই সমস্যা দেখে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশুদের অসুস্থতার বড় একটি কারণ হলো বাজারের রাসায়নিকমিশ্রিত ভেজাল গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা ও খাবার।

এই বাস্তবতা তাকে নাড়া দেয় ভীষণভাবে।

সমাধান নিজের হাতে—খাঁটি খেজুর গুড় উৎপাদনের উদ্যোগ

নিজের জেলার  নাম শুনলেই যার মনে পড়ে খাঁটি খেজুর গুড়ের কথা—সেই মাগুরাতেই সমাধান খুঁজে পান সিজান।  “অরগানিক ফুড ভ্যালি” নামে অনলাইন ভিওিক পেইজের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়ানোর পরিকল্পনা করেন।

মাগুরা সদরের ছয়চার গ্রামের মো খায়রুজ্জামান সবুজ  এর ছেলে শাহরিয়ার সিজান

২০২৪ সালে নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে মাগুরায় একটি খেজুর বাগান ক্রয় করেন তিনি। আনেন রাজশাহীর অভিজ্ঞ গাছি, শুরু করেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুরের গুড় প্রস্তুত।

শুরুটা সহজ ছিল না। অনেকেই তাচ্ছিল্য করেছে, দায়িত্বহীন মন্তব্যও করেছে। কিন্তু সিজান পিছু হটেননি। দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যান।

প্রথম মৌসুমেই তার তৈরি গুড় মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

ডাক্তার-নার্সরাই সিজানের সবচেয়ে বড় ক্রেতা

সিজানের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য—তার খাঁটি গুড়ের বড় একটি ক্রেতা গোষ্ঠী হলো দেশের সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। যারা প্রতিনিয়ত রোগীদের চিকিৎসা দেন এবং খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে সচেতন—তারা নিশ্চিন্তে নিচ্ছেন সিজানের পণ্য।

এটি তার গুড়ের গুণমানের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।

এলাকাবাসী জানান, সিজানের এই উদ্যোগের ফলে আমরা এলাকাবাসী সহ আশেপাশের জেলার মানুষ ও স্বাস্থ্য  সম্মত পাটালি গুড় খেতে পারছে। তার এই উদ্যোগে আমরা সকলে খুশি।

সিজান জানান, শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, মাগুরা ও আশে পাশের কয়েকটি জেলার মিষ্টির দোকানেও যাচ্ছে সিজানের তৈরি খাঁটি গুড়। ফলে একটি ছোট উদ্যোগ আজ স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শুরুতে নিজের ছোট বাগান কেনার পিছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২.৫-৩ লাখ টাকা । মাত্র তিন মাসে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা।

এ বছর সিজান আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেছেন,তার সাথে রয়েছে তার বন্ধু রিজু বিশ্বাস এবং, দাঁতের ডাক্তার সালাউদ্দিন শিমুল।

প্রতি কেজি পাটালি বিক্রি করছেন ৫৯০ টাকা কেজি দরে,

এবং গুড় বিক্রি করছেন ৪৯০ টাকা কেজি দরে৷  তার আশাবাদ, চলতি মৌসুমে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হবে।

শীতের তীব্রতা বাড়লে ঢাকায় স্টল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সিজানের। যাতে রাজধানীর মানুষও সহজেই পান খাঁটি, নিরাপদ, ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়।

নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে সিজান আরো  বলেন—

“আমি যে মানুষকে ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়াতে পারছি—এই একটি বিষয়ই আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তোলে। শিশুদের সুস্থতা ভাবলেই মনে হয় আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক।”

আজ ভেজালের ভিড়ে ঠাসা বাজারে নার্স শাহরিয়া সিজান হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম। নিজের চোখে দেখা সমস্যা থেকে তিনি নিজেই খুঁজে পেয়েছেন সমাধান।

একজন তরুণের সৎ উদ্যোগ কিভাবে সমাজে সত্যি বড় পরিবর্তন আনতে পারে—সিজানের গল্প তারই জীবন্ত উদাহরণ।

 

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর