মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শ্রীপুরে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হাসান মল্লিকের অত্যাচারে কাদিরপাড়া ইউনিয়নের কাদিরপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক জমির সীমানার পাশে নিজের মত করে বাঁশ ও ইট দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে নিয়েছে। এবং জোরপূর্বক এ সকল জমির নিজের বলে দাবি করে আসছে। কেউ কোন প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি এ বিষয়গুলো নিয়ে হাসান একই গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস মল্লিককে কোদালের কোপে মারাত্মক আহত করে। ওইদিনই মনিরুজ্জামান আসাদকে বেধড়ক মারধর করে সে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসানের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে চাই এলাকার সাধারণ লোকজন।
কাদিরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসান মল্লিক রাধানগর সাহাপাড়া গ্রামের প্রতাব সাহা মার্ডার মামলার আসামি। দীর্ঘদিন হাজত খেটে বের হয়ে কাউকে মানুষ বলে মনে করে না। যাকে তাকে যখন তখন মারা, জমি দখল তার নেশা। রিনা বেগম স্বামী মৃত রবিউল ইসলাম ও রিজিয়া বেগম স্বামী মৃত আকামত আলী উভয়ে তাদের জমিতে খুটো গেড়ে দেবার অভিযোগ করেন। শুধু তাদেরই না, এরকম আরো অনেকের জমিই তিনি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার পায়তারা করে আসছে।
বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস মল্লিক বলেন, আমি বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ভ্যান থেকে নেমে বলি আসাদকে মারছিস কেন? তোর বাপতো তার জমি বিক্রি করে গেছে। এ কথা বলার সাথে সাথে হাসানের হাতে থাকা কোদাল দিয়ে সে আমাকে কোপ মারে। পরে আমার পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আমাকে ও আমার ভাতিজা মনিরুজ্জামান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
আহত মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, বেশ কয়েক বছর যাবত কাদিরপাড়া গ্রামের আমার চাচাচো ভাই হাসান মল্লিকের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সে দাবি করে তার বাবাকে তার অপর ভাইয়েরা জমি কম দিয়েছে৷ এ জন্য সে নিজের মত করে আমিন এনে জমি মেপে দখলের চেষ্টা করে। এ বিষয়ে আমার তিন চাচা নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দেয়। হাসান মনে করে এ অভিযোগ দেবার জন্য আমি পরামর্শ দিয়েছি। তারপর থেকে সে আমাকে মারার জন্য ওৎ পেতে থাকে। রবিবার দুপুরে বাড়ি থেকে মাগুরা যাওয়ার পথে কাদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে বটতলা মোড়ে আমাকে পেয়ে বেধরক মারধর করে। এর আগেও আামাদের বাড়ির আশপাশে অনেককে এভাবে মারধর করা ও জমি দখল করা তার কাজ। ভয়ে কেউ তাকে কিছু বলে না।
কাদিরপড়া গ্রামের আকামত, আব্দুর রাজ্জাক ও মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হাসান ও তার ভাই কামাল ভূমি দস্যু ও চাঁজাবাজ। ভয়ে কেউ কিছু বলে না। প্রতিবাদ করলেই যার তার জমি দখল করে। যাকে তাকে মারধর করে। সে তার সৎ ভাইদের জমিও দখল করে নিয়েছে। তারা ভয়ে ওয়াপদা গ্রামে গিয়ে বাড়ি করে বসবাস করছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে হাসানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ০১৯৩৩০০৬৩৬৯ নম্বর মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
