মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরায় পরকীয়া কাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরকীয়া করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন গোপালগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতা ইয়াসির আরাফাত বাবলু (বাবলু মোল্লা)। অভিযুক্ত বাবলু বাঁকা হরিশপুর গ্রামের মোঃ গোলাম মোস্তফার ছোট ছেলে । ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার বাহারবাগ চরপাড়া গ্রামে শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী মামুন মোল্লার স্ত্রী আসমা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়া করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন বাবলু।এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় মেম্বার মো: আবুল কালাম মোল্লা ও গোপালগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ মান্নান জোয়াদ্দার ঘটনাস্থলে গিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবলু দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং একাধিক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো: উজ্জ্বল বলেন, স্থানীয়রা অনেকদিন ধরে তার গতিবিধি নজরে রাখছিলেন। শনিবার রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ সময় হাতেনাতে ধরে ফেললে তাকে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা।
স্থানীয় মাতব্বর মোঃ গুলজার মিয়া জানান, বাহারবাগ চরপাড়ার মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ মামুন মোল্লার স্ত্রী আসমা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়া করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এসময় স্থানীরা বাবলুকে আটকে রাখে। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এলাবাবাসী তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে আছে । পরে আমি ঘটনা নিয়ন্ত্রন আনতে আমার চাচা গোপালগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ মান্নান জোয়াদ্দারকে ফোন করে আসার অনুরোধ জানায় ।
গোপালগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ মান্নান জোয়াদ্দার এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শনিবার মধ্য রাতে ঘটনাস্থল থেকে তাকে মোবাইল করে পরকীয়ার জেরে বাবুলকে আটকে রাখার ঘটনাটি জানানো হয়। পরে তিনি সহ কালাম মেম্বার, মো: গোলজার ও মো: উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাবুলের প্রান রক্ষা করার জন্য তাকে উদ্ধার করে এবং নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, বাবলু মোল্লা বিএনপির গোপালগ্রাম ইউনিয়ন শাখার নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার প্রভাব আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি ও হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগ জমা পড়েছে।তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছিল না।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কার্মকর্তা আইয়ুব আলী বলেন , এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।