মেহেদী হাসান শিপলু, স্টাফ রিপোর্টার যশোর
যশোর চৌগাছায় কোন সনদপত্র ছাড়ায় রোগী
দেখা এবং রোগীকে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ দেয়াসহ নানা অপরাধে এক
চিকিৎসকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন
ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার দুপুরে পৌর এলাকার চৌগাছা যশোর সড়কে
বিদ্যুতের পার হাউজের সামনে কথিত ওই চিকিৎসকের চেম্বারে এই
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।
চৌগাছা পৌর এলাকার পার হাউজের সামনে ছালেহা মার্কেটের একটি
দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে যশোরের শংকরপুর এলাকার মৃত আবু বক্করের ছেলে আব্দুল
আলিম ৬/৭ মাস ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি নাক, কান
ও গলার চিকিৎসার পাশাপাশি হাড়ের চিকিৎসাও করেন। তার কোন
সার্টিফিকেট না থাকলেও নামমাত্র সহকারী ই,এন,টি ফিজিশিয়ান
মেডিকেল প্রাকটিশনার কোর্সের সনদ দিয়ে ভুয়া পদবী ডিগ্রী ব্যবহার
করে চেম্বার পরিচালনা করে আসছিলেন। চৌগাছা উপজেলা শহরসহ
প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে প্রচার লিফলেট বিলি করে রোগী নিয়ে আসতেন।
প্রত্যেক রোগীর নিকট হতে ২/৩শ টাকা ফি নিতেন এবং ৪/৫ হাজার টাকার
ওষুধ লিখতেন সে ওষুধ আবার তিনিই বিক্রি করতেন।
গত বুধবার উপজেলার বড় কাকুড়িয়া গ্রামের জৈনক এক ব্যক্তি তার কাছে
আসেন হাটুর ব্যাথা নিয়ে। তিনি রোগীর কথা শুনে তাকে ওষুধ দেন এবং
তিন দফায় তাকে ১৭টি ইনজেকশন পুশ করেন। তিন দফায় তার নিকট হতে ৭
হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই কথিত চিকিৎসক। গতকাল বুধবার সেই
রোগী ডাক্তারের চেম্বারে এসে এ নিয়ে বাকবিতান্ডে জড়িয়ে পড়েন। খবর
পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং ভুয়া চিকিৎসকের সনদপত্র দেখতে চান। কিন্তু
চিকিৎসক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৯/২ ধারায় ওই ভুয়া
চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।
আজকের দিনের পর হতে সে আর কোন ওষুধপত্র লিখতে পারবে না এমনকি
কোথাও চেম্বার খুলে বসবে না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাসমিন
জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ধরনের কাজ নিঃসন্দেহে
একটি অপরাধ সে নিজেও শিকার করেছেন। উপজেলাতে এমন অভিযান অব্যহত
থাকবে বলে তিনি জানান।