শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ
মাগুরা শালিখায় অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হযয়েছে। উপজেলার অনেক ফসলের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো। যে কারনে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ বন্যার পানি টানার পর নতুন করে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় ধানে থৌড় এসেছে। কিছু কিছু এলাকার ধান পেকে গেছে।
নবেম্বরের ও ডিসেম্বর এবং জানুয়ারী মাসের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তবে টানাবৃষ্টি ও বন্যার কারনে উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় আমন ধানের ভালো ফলন হয়নি। সেই সব এলাকার কৃষকদের যেন দুশ্চিনার শেষ নেই। শালিখা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪,৫ ৮১ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবছর ৩১ হেক্টর জমি বেশি চাষ হয়েছে। অর্জন হয়েছে ১৪,৫,৯০ হেক্টর জমিতে।
আড়পাড়া গ্রামের কৃষক কৃতান্ত রায় জানান, এবছর বেশ কয়েক একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছি। কিন্তু বন্যায় ধানের ক্ষেত তলিয়ে গিয়েছিলো। কিছু কিছু জমির ধান জেগে ছিলো। কিন্তু ফলন ভালো হয়নি।
তবে ধান যা হয়েছে বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে কিছুটা পুশিয়ে যাবে। একই গ্রামের কেনায়েত বিশ্বাস, উদ্দোপ মন্ডল জিল্লুর রহমান, রেজাউল ইসলামসহ আরো অনেকেই বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের ফলনই হয়নি। টানা বৃষ্টির কারনে এমনটা হয়েছে বলে তারা দাবী করেন। তবে ধান যা হয়েছে আশা করি সঠিক বাজার মূল্য পেলে আমরা কৃষকরা মোটামুটি লাভবান হবো। শতখালী গ্রামের কুটি মিয়া, বিকাশ মন্ডল ও করিম মোল্যা বলেন এবছর ৫ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু বন্যায় ধান তলিয়ে যাওয়ার কারনে নাবি ধান রোপন করেছিলাম যে কারনে ধানের ফলন ভালো হয়নি।
একই এলাকার কৃষক শমিরন বিশ্বাস ও ধনেশ্বরগাতি কালিবাড়ীর তপন ঘোষ জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এক প্রকার কৃষকদের ভরাডুবি বলা যায়। শালিখা উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হাসনাত জানান, টানাবৃষ্টির কারনে শালিখা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গিয়েছিলো। যে কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় আমন ধান নাবি রোপন করা হয়েছে। এসব যায়গার ধান ভালোই ফলন হয়েছে।