শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা মাগুরা প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শালিখায় কাঁচাবাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন শাক-সবজি, কিন্তু পরিমাণে কম, দামও চড়াও।

শীতের সবজির মধ্যে ক্রেতার চাহিদা বেশি ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক ও শিমের। এসব সবজির দামও অনেক বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে শিম, কপি শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের শেষদিক থেকে এগুলো বাজারে আসে। কিন্তুু এসব সবজির দাম একটু বেশি। কিছুদিন পর পুরোদমে আসলে দামও কমবে। শনিবার উপজেলা সদর আড়পাড়া বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। বাজারে বেগুন ১২০-১৪০ টাকা, কাঁকরোল, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা, বরবটি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ১০০- ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুরমুখী, লাউ, মূলা কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গাজর ১৬০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আলু মানভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর মিষ্টিকুমড়োর দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা প্রতি আটি ২০/৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩০০/৩৫০ টাকা আর শাকের মধ্যে কচুশাক ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া শাক ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা ও লালশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা সদর আড়পাড়া কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মোগবুল শেখ বলেন, বাজারে শীতকাল কিছু সবজি আসছে। যেগুলোর দাম একটু বাড়তি। এছাড়া বাকি সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সবজির আড়ৎদার আমিরুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাসে বেশ কয়েক বার ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, যে কারণে এখন বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।
বাজারে সবজি কিনতে আসা রেজাউল মোল্যা বলেন“শীত আসতে শুরু করেছে, কিন্তু এখনো শাকসবজির চড়া দাম। এক মুঠা লাল শাক ৩০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে, একটি লাউ মাঝারি আকারের, কিনতে হয়েছে ৬০ টাকা দিয়ে। শীতকালীন সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি।
আড়পাড়া মহিলা কলেজের অধ্যাপক মোঃ মনিরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, বাজারে যে সকল নতুন সবজি উঠছে তা আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এখনো কাঁচা মরিচের দাম কমে নাই। যদি তরি-তরকারীর দাম কমে তাহলে আমরা সামান্য হলেও কিনতে পারবো এবং সুস্থভাবে চলতে পারবো।

স্থানীয় আড়পাড়া বাজার থেকে তরকারি কিনে ফেরার পথে ভ্যান চালক রহমত খান বলেন, এ সময়েও বাজার দর যদি এমন হয় তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো কীভাবে চলবে। বাজার নিয়ন্ত্রন করা জরুরী বলে আমি মনে করি। শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, গত দুই মাসে বেশ কয়েক বার ধারাবাহিক ভাবে বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, যে কারণে এখন বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। আমরা তার পরেও চাষীদের সবসময় সরকারি সহায়তা দিয়ে জাগিয়ে রাখেছি, যাতে কৃষকরা হতাশ না হয়ে আবার ক্ষেতে ফিরে আবাদে মনোযোগ দিতে পারে। তবে শীতকালিন আগাম সবজি চাষ করে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছে।