সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

শালিখার বিভিন্ন বিল থেকে অবাধে চলছে শামুক নিধন-জীববৈচিত্র্য হুমকীর মধ্যে

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৮৮ বার পঠিত

শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা মাগুরা প্রতিনিধিঃ

বর্ষার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগুরার শালিখা উপজেলার বুরোলের বিল ও পাটভাড়ার বিল সহ বিভিন্ন বিল ও ফসলের জমি থেকে অবাধে শামুক ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টন শামুক ধরা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।

শামুক ধরা বন্ধে আইন থাকলেও তা প্রয়োগ হচ্ছে না। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ধারা ৬ ও ৩৪-এ বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া বন্য প্রাণী শিকার, ওঠানো, উপড়ানো ও ধ্বংস বা সংগ্রহ করা যাবে না। এ ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। এ নিয়ম না মানলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ২০১২ সালের ১০ জুলাই প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে শামুককে বন্য প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

শালিখা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সাহারিন সুলতানা জানান, পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণী একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এখন শামুকের প্রজনন সময়। এই মৌসুমে শামুক ধরা হলে প্রজনন ব্যাহত হবে। শামুক খেকো অন্য প্রাণীরা খাদ্যসংকটে পড়ে মারা যাবে। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষক ও কবি স্বপন বিশ্বাস জানান, প্রতিটি প্রাণী কোনো না কোনো ভাবে উপকারী। শামুক ফসলি জমির ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া শামুকের খোলস জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। গতকাল উপজেলার বরইচারা বুরোলের বিল ও থৈপাড়ার পাটভাড়ার বিল এবং শতখালী বান্নাদা ও বাহিরমল্লিকা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধান খেতের পাশ দিয়ে অল্প পানিতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা শামুক কুড়াতে ব্যস্ত। পানি থেকে শামুক ধরে রাখা হচ্ছে বড় পাতিলে। পরে তা বস্তাবন্দী করে ভ্যান ও করিমন যোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর উৎসাহে বিল থেকে শামুক ধরা শুরু হয়। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন—এই চার মাস সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শামুক ধরেন কিছু লোক। পরে তাঁরা তা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। সেগুলো আবার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন খামারে মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি করেন।

শামুক ব্যবসায়ী ও শামুক ধরেন এ রকম কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনার বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে শামুকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) শামুক বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বনি আমিন বলেন, বিভিন্ন খাল বিল নদী থেকে শামুক নিধন করলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর