সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

শ্রীপুরে গড়াই ও হানু নদীর সংযোগ খালে ব্যাপক ভাঙন, হুমকির মুখে রাস্তা ও বসতবাড়ি

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১১৬ বার পঠিত

মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুরে গড়াই ও হানু নদীর সংযোগ খালের ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে খাল পাড়ের রাস্তা ও খালপাড়ের দু-পাশে বসবাসকারী প্রায় দেড়শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। গড়াই ও হানু নদীর প্রায় ৫০০ মিটার খালের গড়াই নদীর সংযোগস্থলের প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়া এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই খালটির ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। খালটি ২০১০ সালে নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে খালটি খননের উদ্যোগ নেন তৎকালীন নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালটি নাকোল, কাদিরপাড়া ও দারিয়াপুর ইউনিয়নের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খালটি কৃষকের যেমন উপকারে আসে, মৎস্যজীবিদের জন্য ও খালটি তেমন উপকারী। উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের কমলাপুর ও নাকোল ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি জিকে সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের সাথে মিশেছে। জিকে সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের সাথে আবার হানু নদী মিশেছে। বর্তমানে খালটির দু-পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে খালের দু-পাড়ে বসবাসকারী প্রায় দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে। খালের দু-পাড়ে বসবাসকারী মানুষেরা তাদের কষ্ট লাঘবে নিজেদের উদ্যোগে পাড় বাঁধলেও পানির চাপে ভেঙে যাচ্ছে গড়াই নদীতে। এলাকাবাসী খালের পাড় সংরক্ষণে ব্রিক স্লাপ বা পাইলিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান নামে এক ব্যক্তি জানান, গড়াই ও হানু নদীর সংযোগ খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গড়াই নদীতে এই খালের মাধ্যমে পানি আসা-যাওয়া করে৷ কিন্তু খালটির দু-পাড় ভাঙনের কবলে পড়ে দু-পাড়ের প্রায় দেড়শতাধিক বাড়ি-ঘর হুমকির মুখে পড়েছে৷ আসা-যাওয়ার রাস্তার ব্যবস্থা ও নাই৷ পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি আমাদের ব্রিকস স্লাপ করে দেয় তাহলে এলাকাবাসীও উপকৃত হবে আর আমরা যারা খাল পাড়ে বসবাস করছি আমাদেরও উপকার হবে। এই খালটিই গড়াই নদীতে পানি আসা-যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। যখন মাঠ থেকে গড়াই নদীতে পানি টান দেয় তখন নদীর পাড় ও পাড়ের রাস্তা ভেঙে যায়৷ আমরা আমাদের নিজেদের উদ্যোগে প্রায় পাড় বাঁধছি, কিন্তু টিকাতে পারছি না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট দ্রুত খালটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি আমাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রেবেকা বেগম ও লিলি বেগম জানান, আমাদের বাড়ি-ঘর, রাস্তা ভাঙে যাচ্ছে গাঙে। একবার না, দুইবার না তিনবার। আমরা দ্রুত এ সমস্যা থেকে বাঁচতে চাই। আমরা এ রাস্তায় ভ্যান চালাতে পারছি না, যাতায়াত করতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি৷ আমরা গ্রামের মানুষ, মাঝে মাঝে আমরা নিজেরাই বালু খুয়া নিয়ে এসে এই রাস্তা করছি, তারপরেও থাকতেছে না৷ চলে যাচ্ছে পাইপ ভাঙে। আমরা গরীব মানুষ টাকা পাবো কনে বছর বছর? আমরা এই টুকু জাগায় বসবাস করি। তাও যদি না থাকে তাহলে কনে যায়ে বসবাস করবো? আমরা এ ব্যাপারে ডিসি সাহেবের সহযোগিতা চাই।

নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া জানান, ২০১০ সালে নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে খালটি খনন করা হয়। খালটি খননের ফলে নাকোল, কাদিরপাড়া ও দারিয়াপুর এই ৩ ইউনিয়নের মানুষ উপকৃত হয়। সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের পাড় রক্ষায় স্লাপ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে খালের দু-পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের পাড় রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় কাদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন খান জানান, গড়াই নদী ও হানু নদীর সংযোগ খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাল। কৃষি কাজের জন্য কৃষকদের জন্য খালটি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। খালটি ভেঙে যাওয়ায় খালের দু-পাড়ের মানুষগুলো খুব কষ্টে আছে। খালটি রক্ষায় আমাদের সকলের এগিয়ে আসা উচিত।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার জাহান সুজন জানান, ভাঙনের ব্যাপারে আমরা আপনার কাছ থেকে সর্বপ্রথম জানলাম। লিখিতভাবে কেউ আমাদের জানায়নি। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে যাবো। এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করবো। ছবি ও ভিডিও নিয়ে আসবে এবং ভাঙন এলাকা সার্ভে করবো। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন এলাকাটি দেখার প্রয়োজন আছে তাহলে তারাও সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পারেন। কাজ করার প্রয়োজন হয় তাহলে জিও ব্যাগ দিয়ে খালের পাড় বেঁধে দেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর