শহিদুজ্জামান চাঁদ শালিখা মাগুরাঃ
মাগুরার শালিখায় আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক৷ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ৫শত ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফসি ৯ হাজার ৮২৫ হেক্টর, হাইব্রিড ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, আগামী মাসের মাঝামাঝি তাদের কাক্ষিত সোনালী ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ পযন্ত ৪ হাজার ৩শত ৬ হেক্টর জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। এই ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের নাঘোসা, দেলুয়াবাড়ি, ছান্দাড়া, সোনাডাঙ্গা গ্রামে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। নাঘোসা গ্রামের ধান চাষি আব্দুল কাদের মোল্লা জানান, এবার ১১ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানও খুব ভালই হয়েছে। প্রতিটি শীষ ক্ষেতে সোনার মত ঝিলিক মারছে। বাজারে ভাল দাম পেলে লাভবান হতে পারবো। আড়পাড়া গ্রামের ধান চাষি মুকুল শেখ জানান, এবার ১ একর জমিতে ধানের চাষ করেছি। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান আছে ৪০ শতক ও বাকি ৬০ শতাংশ জমিতে মিনিকেট জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে এবার স্বপ্ন দেখছি ভাল দামের। চুকিনগর গ্রামের পলাশ বিশ্বাস বলেন, এবছর তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি৷ ধানের খুবই ভালো ফলন হয়েছে৷ তবে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি একটু বেশি। মাথা পিছু শ্রমিককে দেওয়া লাগছে ১২০০ শ থেকে ১৪০০ শ টাকা। তবে গ্রামের শ্রমিক ৮০০ শ থেকে ১০০০ টাকা করে৷ নিরব মন্ডল,শরিফুল ইসলাম,ফয়সাল মোল্যা সহ আরও কয়েকজন ধান কাটা শ্রমিক বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষকদের ধান ভালো ফলন হয়েছে৷ এছাড়া আমরা শ্রমিকরাও মাথাপিচু দিন ১৩/১৪ শ টাকা করে নিচ্ছি৷ সরেজমিনে উপজেলার আড়পাড়া,চুকিনগর,শতখালী,সিমাখালী,বুনাগাতী,
গঙ্গারামপুর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় কম বেশি বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় নির্বিঘ্নে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করতে পারছেন কিষান-কৃষানিরা। সোনালি ধানের ম-ম গন্ধে মনের আনন্দে কাজ করছেন তাঁরা। কথা বলার মতো যেন ফুরসত নেই তাঁদের। এসব ধান নিয়ে কৃষক কৃষাণী যেমন ব্যস্ততা, তেমনি আনন্দও লক্ষ করা যাচ্ছে তাদের মাঝে। কৃষকের ধান কাটার আনন্দ গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরম কেও হার মানিয়েছে। শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, শালিখা উপজেলায় এবছর ১৩,৫,৭৫ হে. জমিতে বোরো ধানের আবাদ অর্জিত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ হে. বেশি। আজ পর্যন্ত ২০% জমির ধান কর্তন হয়েছে৷ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কর্তন সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে৷ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। শতকরা আশিভাগ ধান পেকে গেলে তা দ্রুত কর্তন করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।