রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর শহরের মুজিব সড়কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড নষ্ট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে শহরের ঈদগাহ মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে আসা খণ্ড খণ্ড মিছিল থেকে এসব ঘটনা ঘটে।
মুজিব সড়কে অবস্থিত প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড, সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড নষ্ট করেন জামায়াতের কর্মীরা।
এদিকে মুজিব সড়কে অবস্থিত প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ডে সড়কের নাম মুজিব সড়ক যশোর থাকায় জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা সাইনবোর্ডে ‘মুজিব’ লেখা অংশ কেটে নিয়ে গেছে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
ভিডিওতে নিজেকে জামায়াতের কর্মী দাবি করে তিনি প্রেস ক্লাবের সাইনবোর্ডে মুজিব শব্দটি ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলেন। ভিডিওটিতে তিনি বলতে থাকেন, এদেশে মুজিব বলে কোন শব্দ থাকবে না।’ এরপর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমালোচনা করছেন।
যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এইচ আর তুহিন তার ফেসবুকে ওই ব্যক্তির ছবিসহ সাইনবোর্ড শেয়ার করে সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘এই ভদ্রলোক প্রেসক্লাব যশোরের সাইন বোর্ডের ‘মুজিব সড়ক’ লেখার অংশে মুজিব শব্দটি ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন; সরকার এই সড়কের নাম কি পরিবর্তন করেছে? আপনি এসেছেন জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে, আপনার কাছে ব্লেড কেন? আমি নিশ্চিত সড়কের নাম পরিবর্তন করেনি সরকার। তাহলে নাম কেটে দেওয়ার আপনি কে? উগ্রতা একটু থামাও। মনে রেখো, দেশে মানবতা, সাম্যের, সম্প্রীতি, সহাবস্থান… চেতনার মানুষ মারা যায়নি। একে আইনের আওতায় আনা হোক।
এই বিষয়ে জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান বলেন, জামায়াতের কর্মী সম্মলনে এসে প্রেসক্লাবের বিলবোর্ডে মুজিব শব্দটি কেটে নিয়ে গেছে। এটি আসলেই ঘৃণিত কাজ। আমরা জেলা জামায়াতের শীর্ষনেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে, একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস বলেন, এটা আমার নলেজে নেই। এমনটা তো হওয়ার কথা না। এমন কোনো নির্দেশনাও ছিলো না। শেখ মুজিবের নাম থাকতেই পারে। তাই বলে তো কোনো প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। এমনটা হলে যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কেউ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।