রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
নাশকতার মামলায় আওয়ামী লীগের ১৬৭ নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে যশোর আদালতে নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে অংশ নেয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির নেতাসহ সাধারণ আইনজীবীরাও। এ সময় তারা আদালত চত্বরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারী আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসরদের প্রতিহতের ঘোষণা দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, নাশকতার মামলায় আত্মসমর্পণ এর নামে আওয়ামী দোসররা আদালত চত্বর অস্থিতিশীল করতে গতকাল (রবিবার) স্লোগান দিয়েছে। যাঁরা খুনি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সদস্যসচিব জেসিনা মুর্শিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিগত বছরগুলোতে গায়ের জোরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছিল। তাদের ফ্যাসিজমের কারণে প্রধান বিচারপতিকেও দেশ ছাড়তে হয়েছিল। বিচার বিভাগকে আর প্রশ্নিবিদ্ধ হতে দেবে না ছাত্র–জনতা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেই আওয়ামী লীগ সরকার বিতাড়িত হয়েছে। কিন্তু তাদের সেই স্বভাবটা এখনও থেকে গেছে। তারা আদালত চত্বরে দলীয় স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তাদের সকল অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ছাত্ররা রাজপথে আছে এবং থাকবে। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা আদালত চত্বরে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে। তারা বর্তমান সরকারের পতনের লক্ষ্যে যশোর থেকে আন্দোলন শুরুর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের ছাত্র-জনতা বসে নেই। আজ তারা প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করেছে। আমরা আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে ছিলাম, থাকবো।’
গতকাল রোববার পৃথক তিনটি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মামলায় আওয়ামী লীগের ১৬৭ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। এর মধ্যে বিচারক ৪২ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে বাকিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময়ে ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন। তখন আদালত এলাকায় উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে এর কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।