রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ নির্যাতন করে তিন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে এলাকায় এমন অভিযোগ উঠেছে। শার্শার পাচভুলট ও পুটখালী সীমান্ত থেকে তিন জন বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোর ৭ টার সময় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) ও ভোর ৪ টার সময় সাবুর আলী (৩২) নামে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার হয়েছে এবং বিকাল ৪ টার সময় সাকিবুল ঢালি (২২) এর লাশ উদ্ধার হয় ইছামতি নদীর বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে। তবে স্থানীয়রা জানায় রাত্রে এরা ভারতে চোরাচালানী কাজে গিয়ে বিএসএফ এর নির্যাতনে মারা গেছে। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এবং সাবুর আলী একই থানার দিঘিরপাড় গ্রামের আরিফ হোসেন এর ছেলে একই গ্রামের জামিনুর রহমানের ছেলে সাকিবুল ঢালি। সাকিব ছোট বেলা থেকে নানা জবেদ আলীর বাড়ি বেনাপোলের দিঘিরপাড় গ্রামে বসবাস করে আসছে। তার পৈত্রিক বাড়ি যশোর জেলার চৌগাছা থানার শাহজাদপুর গ্রামে।

সুত্র মতে এরা মঙ্গলবার গভীর রাত্রে ভারতে চোরাচালানীর কাজে পাচভুলট সীমান্ত পার হয় ৫ জনের একটি দল। এরপর তাদের মধ্যে সকালে সীমান্তর দুইটি এলাকা থেকে দুটি লাশ উদ্ধার হয় ইছামতি নদীর কিনারা থেকে। এবং বিকালে আর একটি লাশ উদ্ধার হওয়ায় বাকি দুইজনের সন্ধান না মেলায় গুঞ্জন ছুটেছে আর দুই জন কোথায়।
স্থানীয়রা জানায়, এদের ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ শারীরীক ভাবে নির্যাতন করে । এরপর দুই জনকে ইছামতি নদীর বাংলাদেশ সীমান্তে রাত্রের আধাঁরে রেখে যায়। সকালে বিজিবি ও স্থানীয়রা নদীর কিনারায় তাদের লাশ দেখে শার্শা ও বেনাপোল থানায় খবর দেয়। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তবে পুটখালী সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া সাবুর আলীকে উদ্ধারের পর জীবীত পাওয়া যায়। তাকে বাড়ি নেওয়ার পথে মারা যায়। বিকাল ৪ টার দিকে সাকিব এর লাশ বাংলাদেশ সীমান্ত অংশে ভাসতে দেখে বিজিবি ও পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা । এরপর শার্শা থান সাকিব এর লাশ উদ্ধার করে।
শার্শা ওসি আমির আব্বাস বলেন, পাচভুলট থেকে উদ্ধার হওয়া লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে। তাদের গায়ে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। অপরদিকে বেনাপোল পোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার লিখন বলেন, পুটখালী ইছামিত নদীর কিনারা থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশী নাগরিক সাবুর আলীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার শরীরে নির্যাতনের আঘাত পাওয়া যায়। তার পরিবার তাকে বাড়ি নেওয়ার পথে সে মারা গেছে।
খুলানা ২১ বিজিবি পুটখালী ও পাঁভুলোট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার সলিমুল্লাহ ও বাচ্চু মিয়া বলেন সীমান্তের ইছামতি নদীর বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে দুইটি লাশ উদ্ধার হয়। তাদের গায়ে আঘাতের চিহৃ ছিল। কে বা কারা তাদের নির্যাতন করে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে বিএসএফ এর কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে খুলনা ২১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল খুরশীদ আনোয়ার জানান, একজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য ছিলো। এ বিষয়ে বিএসএফের কাছে জানতে চাইলে তাদের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।
তবে কীভাবে মরদেহটি এখানে এলো এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।