রাইসুল ইসলাম অপু ,যশোর প্রতিনিধি :
১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস বিভীষিকাময় পরিসমাপ্তির পর ছিনিয়ে আনে বিজয়। বাঙালি জাতি পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালে।
মহান বিজয়ের ৫৩ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশি বাইক ডট কম আয়োজনে এবং ইয়ামাহা’র সহযোগিতায় ৫৩টি ইয়ামাহা বাইক নিয়ে বাংলাদেশের এক প্রান্ত তেতুলিয়া থেকে আরেক প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত একটি চ্যালেঞ্জিং বাইক রাইড সম্পন্ন করেছেন।

চ্যালেঞ্জিং এই রাইডে অংশগ্রহণ করেন যশোর শহরের বাসিন্দা ইয়ামন আলম পিয়াল। ছোটবেলা থেকেই পিয়ালের বাইক রাইডের প্রতি ছিলো স্বপ্ন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি বাইক চালাতে শেখেন এবং সেই স্বপ্ন তার পূরণ হয় ২০১৪ সালেই।

বাইক রাইডের নেশা তার অনেক আগে থেকে। ঘুরেছেন দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। বাইক পাগল ইয়ামন আলম পিয়াল যখনই সুযোগ পান তখনই তিনি ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কখনো বা সমুদ্রবিলাস,কখনো চন্দ্র বিলাস বা কখনো বৃষ্টি বিলাশ কোন কিছুই বাদ রাখেনি এই টগবগে যবুক। তবে তার এবারের ভ্রমণের স্বাদ ছিলো একটু চ্যালেঞ্জিং।

কনকনে এই শীতের মধ্যে ৫৩ জন বাইকার ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তেঁতুলিয়া ০ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন। সারাদিন-সারারাত বিরতিহীন ২৮ ঘন্টার রাইডে ৯১৫কিলোমিটার অতিক্রম করে তারা টেকনাফ ০ পয়েন্টে পৌঁছান। এটি বাংলাদেশের বিজয়ের আনন্দকে নতুনভাবে উদযাপনের একটি দৃষ্টান্ত।
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার দূরত্ব ৯১৫+ কিলোমিটার হলেও পিয়ালের জন্য ছিলো আরও বাড়তি কষ্টের। যশোর শহর থেকে মূলত তার সফর শুরু হওয়ায় তাকে ঘুরতে হয়েছে ২৩০২ কিলোমিটার।
ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণ নিয়ে ইয়ামন আলম পিয়াল বলেন, এই দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং পথযাত্রা তাদের জন্য একদিকে ছিল যুদ্ধের মতো, অন্যদিকে ছিল রোমাঞ্চকর এবং অত্যন্ত মজার। এটি ছিল একটি উদ্যমী এবং অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা যা দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে ইয়ামাহা R15 V3 বাইক নিয়ে এতো পথ পারি দেওয়া টা ছিলো তার জন্য কষ্টদায়ক।
বিজয়ের ৫৩ বছরে এমন একটি সুন্দর আয়োজন করার জন্য ইয়ামাহা এবং দেশি বাইক ডট কমকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে ৭০০ এর অধিক বাইক রাইডাররা এই আয়োজনে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করেন তাদের মধ্যে থেকে ৫৩ জন এই আয়োজনে সুযোগ পায়।