রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালির সহস্রাধিক ফুলচাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। খরা ও ভারিবর্ষণে বৈরিতা পেরিয়ে শীতের অনুকূল আবহাওয়ায় সুদিনের স্বপ্ন বুনছেন ফুলচাষীরা। আসন্ন শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস, মহান বিজয় দিবস, ভালবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বসন্ত উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ফুলের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অঞ্চলের ফুলচাষীরা। এই অঞ্চলে বছর জুড়ে ফুলচাষ হলেও ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচমাস ফুলের ভরা মৌসুম। চলতি বছরের গ্রীষ্মে অতি তাপমাত্রা আর বর্ষার অতিবৃষ্টির ধকল কাটিয়ে এবার মৌসুমে চাষিরা শতকোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালী অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে চাষীরা ফুলক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রয়োজনমাফিক পানি দেওয়া, স্প্রে করা, আগাছা নিড়ানো, মরা-রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলাসহ ক্ষেত পরিচর্যায় তাদের দম ফেলবার সুযোগ নেই। পাশাপাশি ক্ষেত থেকে ফুল তুলে নিয়ে ছুটছেন গদখালি ফুলবাজারে। দূর-দূরান্তের ক্রেতারাও হাজির হচ্ছেন সেখানে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণা আর হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে গোটা এলাকা। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা ফুলের পসরা সাজিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শত শত ফুলচাষী। ফুলের চাহিদা বাড়তি থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি ফুল কিনছেন এই বাজার থেকে। একই সাথে বেশি দাম ভালো পাওয়ায় ফুলচাষীরাও বাজারে দ্বিগুণ ফুল এনেছেন। সবমিলিয়ে ফুল-বেচাকেনা জমে উঠায় ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের মনে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, যশোরে প্রায় ৭ হাজার ফুলচাষি রয়েছেন। তারা অন্তত ১২শ’ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষ করেন। ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, নির্বাসখোলার বিভিন্ন মাঠে ব্যাপক পরিমাণে ফুল চাষ হয়ে থাকে। দেশের মোট চাহিদার অন্তত ৭০ ভাগ ফুল সরবরাহ করেন যশোরের গদখালী অঞ্চলের ফুলচাষিরা।

নির্বাসখোলা গ্রামের ফুলচাষী শিমুল হোসেন জানান, গ্রীষ্মে অতি তাপমাত্রা আর বর্ষার অতিবৃষ্টির ধকল পেরিয়ে শীতের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফুলের চাষ ও উৎপাদন ভাল হয়েছে। সামনের উৎসব গুলো ঘিরে ফুলবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতিতে ফুলচাষীরা খুশি।
এদিকে আরেক ফুলচাষী ও বিক্রেতা সোহানুর রহমান বলেন, এখন যে দামে ফুল বিক্রি হচ্ছে, তা কয়েকদিন পরে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সারাদেশ থেকে পাইকাররা আসছেন। ফলে ভাল দাম পাবেন ফুলচাষীরা।
পানিসারা গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, এবছর ফুলচাষিরা আসন্ন উৎসব ঘিরে বাড়তি ফুলের চাষ করেছিলেন। তবে অসময়ের দুইবার বৃষ্টির কারণে ফুলচাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, এবছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পর অসময়ে বৃষ্টিতে ফুলচাষিরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বিজয় দিবস, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, বসন্তবরণ ও বাংলা নববর্ষে ফুলের বাড়তি চাহিদা উপলক্ষে কৃষকরা ফুল চাষ করেছেন। সব ঠিক থাকলে এই অঞ্চল থেকে এই মৌসুমে শত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, যশোরে প্রায় ৬ হাজার কৃষক এক হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ১৩ ধরনের ফুল চাষ করে থাকেন।