সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হুক্কা

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৭৪ বার পঠিত

মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি

কালের বিবর্তনে সমাজ থেকে হারিয়ে যায় অতীত ঐতিহ্য। এরই ধারাবাহিকতায় মাগুরার শ্রীপুরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের বাংলার ঐতিহ্যবাহী হুক্কা। বর্তমানে ধূমপানের মাধ্যম নামী-দামী সিগারেটের সাথে পাল্লায় টিকতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়কার গ্রাম বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ধূমপানের একমাত্র মাধ্যম হুক্কা।

আশির দশকে জনপ্রিয় ধুমপানের মাধ্যম ছিল এ হুক্কা। প্রতিটা ঘরে ঘরে ধুমপানের একমাত্র মাধ্যম ছিল হুক্কা। শহর ব্যতিত সে সময় বিড়ি-সিগারেটের ব্যবহার ছিল না। গ্রামের কৃষক যখন মাঠে কৃষিকাজে যেত তখন সাথে নিয়ে যেত হুক্কা। বাঁশের চুঙ্গার ভিতর থাকতো তামাক, টিক্কা, পুরাতন রশি ও নারকেলের আঁশ ও খড় দিয়ে তৈরী বেনী।

এক সময় কৃষক-শ্রমিক এমনকি সাধারণ মানুষের  বাড়ির ওঠানে সকাল-বিকালে কাজের ফাঁকে আয়েসী ভঙ্গিতে এক ছিলিম তামাকের সাথে নারিকেলের আশে আগুন ধরিয়ে তা ছিলিমে দিয়ে মনের সুখে হুক্কা টানত। এতে কৃষক-শ্রমিকের ক্লান্তি কেটে পরিতৃপ্ত পেত। জমিদার ও গ্রামের মোড়লরা নানাভাবে তামাক তৈরি করে হুক্কায় টান দিয়ে পরম আনন্দে তৃপ্তির স্বাদ নিত। গ্রাম-গঞ্জে সন্ধ্যা হলে বাড়ির উঠানে বসতো মুরব্বিদের গল্পের আসর। গল্পগুজব এর মধ্যে চলত হুক্কা দিয়ে ধূমপান। পরিবারের ছোটদের সকালের প্রথম কাজ ছিল দাদা ও মুরব্বিদের হুক্কা সাজিয়ে দেওয়া। বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশই হুক্কা কি তারা চিনে না।

উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের আমজেদ মল্লিক গ্রামের (৮০) তিনি হুক্কা দিয়ে ধূমপান করতেন। তিনি বলেন, আগে গ্রামের সবাই হুক্কা টানত। এর মধ্যে আলাদা একটা তৃপ্তি ছিল। এখন হুক্কা ছেড়ে বিড়ি, সিগারেট ও গাঁজা খায়।  হুক্কার নেশায় যারা অভ্যস্ত তারা হুক্কা ছাড়া থাকতে পারবে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠে হুক্কার পানি বদলায়ে না খাইলে আমার পেট পরিষ্কার হতো না। এখন সব ছেড়ে দিয়েছি। হুক্কা, বিড়ি, সিগারেট কোন কিছুই আর এখন খাই না৷

একই গ্রামের কুবাদ মুসল্লি (৯০) কিভাবে হুক্কা তৈরি করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঝুনা নারিকেলের একটা মালাই দুটো ফুটো করে তার উপর কারুকার্য করা একটি কাঠের নল তৈরি করে তাতে মাটির তৈরি ছিলিম বা কলকি দিয়ে নারিকেলের মালাই ভর্তি পানি ভরালেই হুক্কা হয়ে যায়। আগের আমলে জমিদারেরা পিতলের হুক্কা ব্যবহার করত। আমি এখন আর হুক্কা-টুক্কা খাই না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর