সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

১১ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ ও ০৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া  মুক্ত দিবস

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৮৬ বার পঠিত

জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ

১১ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা মুক্ত দিবস।১৯৭১ সালের এই দিনেই পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে আশুগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে আশুগঞ্জকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

৯ডিসেম্বর আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে পাকবাহিনীর সাথে ব্যাপক যুদ্ধ হয় মুক্তিবাহিনীর সাথে। এ সময় মুক্তিবাহিনীর প্রায় ৩ শতাধিক সেনা সদস্য মৃত্যুবরণ করেন। যুদ্ধে পাকবাহিনীরও প্রায় শতাধিক লোক মারা যায়।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এলাকা শত্রুমুক্ত হওয়ার পর একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্র বাহিনী বর্তমান আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রাম দিয়ে আশুগঞ্জ সদরে প্রবেশ করে। সর্বশেষ যুদ্ধ সংগঠিত হয় আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুরে। তিনদিন তুমুল সম্মুখযুদ্ধে অর্ধ সহস্রাধিক মিত্রবাহিনী ও পাকবাহিনীর সদস্য নিহত হয়। ঐ সময় যুদ্ধে নেতৃত্ব সুসংগঠিত করতে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন লেঃ কর্ণেল কে এম সফিউল্লাহ, লেঃ কর্ণেল মোর্শেদ, মেজর নাসির, ক্যাপ্টেন মোঃ নাসিম, ক্যাপ্টেন মতিনসহ আরো অনেকে।১০ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাড়া রাত ব্যাপী প্রস্তুতি নিয়ে ভোর বেলায় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রেষ্ট হাউজে অবস্থান করে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হলে  সোহাগপুরের ভয়াবহ যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর তিনটি ট্যাংক ধ্বংস হয়। শেষ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণে টিকতে না পেরে আত্মরক্ষার জন্য পাকবাহিনী ১০ ডিসেম্বর দুপুরের পর থেকে আশুগঞ্জ থেকে পাক সেনারা পালিয়ে যেতে শুরু করে। ১০ ডিসেম্বর রাতেই পাকবাহিনী আশুগঞ্জ থেকে পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে পালিয়ে যায়। আশুগঞ্জ থেকে পালিয়ে ভৈরব যাওয়ার সময় মেঘনা নদীর উপর নির্মিতব্য রেল সেতুর একাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এতে সেতুর ২টি স্প্যান ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। পরে ১১ডিসেম্বর সকালে বিনা বাধায় আশুগঞ্জ বাজার এলাকা দখল করে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা। এতে আশুগঞ্জ শুত্রু মুক্ত হয় । ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন লে. কর্ণেল কে,এম,সফিউল্লাহ, লেঃমোঃ হেলাল মোর্শেদ খান, মেজর আইন উদ্দিন ও মেজর নাসির প্রমুখ বীর সেনানীর সুসংগঠিত নেতৃত্বে সর্বস্তরের বীর জনতা পাক হানাদারদের হাত থেকে আশুগঞ্জকে মুক্ত করেছিলেন।১১ ডিসেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। আশুগঞ্জকে মুক্ত করতে গিয়ে সেদিন পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন সুবেদার মেজর সিরাজুল ইসলাম, ল্যান্সনায়েক আব্দুল হাই, সিপাহী কফিল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরসহ আরও অনেকে। পাকবাহিনী বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ধরে এনে সাইলোর কাছে, মেঘনা নদীর উপর নির্মিত রেল সেতুর কাছে, ধানের আড়তের মাঠে, মাছ বাজারে, রেল ষ্টেশরে কাছে আশুগঞ্জের  ৫টি স্পটে নির্মমভাবে নিরীহ লোকদের ধরে এনে পাখিরমত গুলি করে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর ও আশুগঞ্জের রেল ষ্টেশনের কাছে সম্মুখযুদ্ধের কাছে একটি স্মৃতি স্তম্ভ ছাড়া ৪টি স্পটে কোন স্মৃতি স্তম্ভ গড়ে উঠেনি। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার(১১ ডিসেম্বর) উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে  আলোচনা সভা ও র‍্যালির আয়োজন করেছে। সকাল ১১ টায় র‌্যালী শেষে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার  ও উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের প্রশাসক শ্যামল চন্দ্র বসাক এতে সভাপতিত্ব করবেন।

অপরদিকে  ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত হয়। তাই এদিনটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রুমুক্ত দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রু মুক্ত হওয়ার আগে ৩০ নভেম্বর থেকে জেলার আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় পাকবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে মিত্রবাহিনী। অগ্নিঝড়া ১ ডিসেম্বর আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় ২০ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। ৩ ডিসেম্বর আখাউড়ার আজমপুরে তীব্র যুদ্ধ হয়। সেখানে ১১ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। শহীদ হন তিন মুক্তিযোদ্ধা।এরই মধ্যে বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, মুকুন্দপুর, হরষপুর, আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, রাজাপুর এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। ৪ ডিসেম্বর পাক হানাদাররা পিছু হটতে থাকলে আখাউড়া অনেকটা শত্রুমুক্ত হয়। এখানে রেলওয়ে স্টেশনের যুদ্ধে পাক বাহিনীর দু’শতাধিক সেনা হতাহত হয়। ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

এরপর চলতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করার প্রস্তুতি। মুক্তিবাহিনীর একটি অংশ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে এবং মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্ট ডিভিশন রেজিমেন্টের সদস্যরা আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।শহরের চারদিকে মুক্তিবাহিনী অবস্থান নিতে থাকায় ৬ ডিসেম্বর পাক সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকারদের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কেএম লুৎফুর রহমানসহ জেলা কারাগারে আটক অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চোখ বেঁধে শহরের করুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ৭ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে পাকিস্তানি বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। পরে ৮ ডিসেম্বর কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রুমুক্ত হয়।

৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল যুদ্ধের পরিচালনাকারী জহুর আহমেদ চৌধুরী স্থানীয় পুরাতন কাচারী প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। একই দিন সন্ধ্যায় জেলার সরাইল উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর