আলী হোসেন,বিজয়নগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হচ্ছে বিজয়নগর উপজেলা। এই উপজেলাটি ভারতের সীমানা ঘেষা হওয়ায় উপজেলাটির প্রধান্য বেশী। উপজেলাটির মানুষ বেশীর ভাগই ভারত থেকে বিভিন্ন পন্য আমদানী করে থাকে।
তাছাড়া এই উপজেলাটি লিচু ও মাল্টা চাষের জন্য বাংলাদেশের মধ্যে বিখ্যাত। এ কারনে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি উপজেলাটির উপর দিয়ে সিলেটমুখী রেল পথ রয়েছে। রয়েছে অন্যান্য আকর্ষনীয় দর্শনীয় স্পট। তবে উপজেলার লোকজনের চলাচলের অন্যতম হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ।
জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য বিজয়নগর উপজেলায় বেশ কয়েকটি সড়ক রয়েছে।
এসব সড়কগুলোর একটি অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে হরষপুর-মির্জাপুর সড়ক।এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে সহস্রাধিকের বেশি যানবাহনের পাশাপাশি অত্র উপজেলার লোকজন চলাচল করে থাকে। যে কারনে এ সড়কটির গুরুত্ব বেশি। উপজেলার এ সড়কটি দিয়ে বিজয়নগর উপজেলার পূর্বাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের মাধবপুরের প্রায় ৩০টিও বেশি গ্রামের মানুষ
যাতায়াত করে থাকে।
বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে, যা দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল বেশি কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কটির বেশীর ভাগ অংশ এখন ভাঙ্গা, সেই সাথে অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচল তো দুরের কথা যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এ সড়কটি বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসেবে
মাধবপুর উপজেলা শহরের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। বিকল্প সংযোগ সড়কটি দুই উপজেলার লোকজনের চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূ্ত্র থেকে জানা যায়,
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে অর্থাৎ মির্জাপুর মোড় থেকে হরষপুর পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। পুরো রাস্তার মধ্যে বেশিরভাগ অংশেই খানাখন্দ। বেহাল এই অবস্থা পাইকপাড়া, আমতলী, বাগদিয়া ও সোনামুড়া এলাকায়।
প্রতিদিনই এ সড়কটিতে চলাচলরত যানবাহনগুলো গর্তের মধ্যে পড়ে যায় এবং গর্তে পড়ার কারনে গাড়ির চাকা আটকে যায়।
এছাড়া যানজটসহ নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী সাধারণজনগনকে। যদিও সড়কের ভগ্নদশার কারণে দূর্ঘনা বাড়ার সাথে
প্রতিনিয়ত যানবাহনের যেমন যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে,তেমনী বাড়ছে দুর্ঘটনা।
সামান্য বৃষ্টি হলে সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়ায় এ সড়কটি।
সুত্র আরো জানায়, ২০২১ সালে মেসার্স রাঙামাটি শিপন (জেবি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব দেখিয়ে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে সড়ক সংস্কার শুরু করলে তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির সংস্কার কাজে ফিরে আসে। গত বছরের প্রথম দিকে আবার সড়কের বাকি অংশের কাজে যুক্ত হয় মেসার্স রাঙামাটি শিপন (জেবি) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে স্থানীয় এমপির নির্দেশে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করলেও প্রথম ধাপে সংস্কার করা সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হতে শুরু হয়। সে সময়ে কোন রকম ভাবে জোড়াতালি দিয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সংস্কারের পর বছর না যেতেই পুরো সড়কটি এখন গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান ভুইয়া বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। কি করা যায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করছে। আমরাও খেয়াল রাখতেছি। আশা করছি অতিদ্রুত সড়ক সংস্কার কাজের ব্যবস্থা হবে।