মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে এলাকায় রীতিমত ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তার এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব্দালপুর ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা গ্রামের হেদায়েত বিশ্বাস ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, মাগুরা জেলা প্রশাসক ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমার পিতা মরহুম শফিউল হক সোনাইকুন্ডি মৌজায় আশুতোষ শিকদার ও অন্নপূর্ণা মিত্রের কাছ থেকে ২৩ শতক জমি ক্রয় করেন। তাদের জীবদ্দশায় উক্ত জমি ভিপি খতিয়ান ভূক্ত থাকে। পরবর্তীতে এসএ রেকর্ডীয় মালিকগণ আদালতে আদেশে নামপত্তন ও সরকারের খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা গ্রহণ করেন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ থাকে। নামপত্তন অনুযায়ী এবারের আরএস রেকর্ড আমাদের নামে চূড়ান্তভাবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে আমি নায়েব অফিসে হাল সনের খাজনা দিতে গেলে অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আমাকে বলেন, এটা এনিমি সম্পত্তি এর কোন দাখিলা হবে না। দাখিলার জন্য তিনি আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়াই তিনি রেগে গিয়ে হাল সনের খাজনা না নিয়ে আমার হাত থেকে দাখিলা কেড়ে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলেন। এবং আমার এ নামপত্র আদালতের আদেশ মানে না বলে গালিগালজ করতে থাকেন যা সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সব্দালপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ ঘুষ ছাড়া কোন কাজই করেন না। এলাকায় লোকজন দাখিলার জন্য গেলে ঘুষ নেন। ঘুষ নিলেও অনেকের কাজ তিনি করে দেন না। এমনকি ঘুষ না দিলে দিনের পর দিন ঘুরান সাধারণ মানুষের। ভাড়াটে লোক দিয়ে অফিসের কাজ চালাচ্ছেন। নামপত্তন এবং মিস কেস প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেন। ঘুষ না দিলে রিপোর্ট প্রদানে গড়িমসি করেন।
এ বিষয়ে কাজলী গ্রামের স্বপন বিশ্বাস বলেন, আমার জমির দাখিলার জন্য নায়েব শামীম আহম্মেদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ১ বছর আগে আমি তাকে ১৪’শ টাকা ঘুষ প্রদান করি। আমার কাজ তিনি করে দেননি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। এছাড়া তিনি মাদকাসক্ত ও নারী কেলেংকারীতে জড়িত। আমরা তাকে এখন থেকে দ্রত অপসারণ চাই।
এ বিষয়ে কাজলী উত্তরপাড়া গ্রামের সাহেব আলী বলেন, তিনি তার অফিসে সেবা নিতে আসা প্রায় সকল মানুষের সাথেই দুর্ব্যবহার করেন। আমাকে তিনি জমির দাখিলার জন্য ১০ টাকা দিতে বাধ্য করেন। খাজনা বাবদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে ৮’শ টাকার দাখিলা ধরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে সব্দালপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি না হয়ে অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।