শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার কাদিরপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর চর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদী সংলগ্ন অকেজো জায়গা ধান চাষের জন্য নিরানব্বই বছরের জন্য বন্দোবস্ত দিয়েছেন অর্ধ শত ভূমিহীন পরিবারকে। জীবনের শেষ অবলম্বন হিসেবে এই জায়গাগুলোই ধান চাষ করে চলে তাদের বেঁচে থাকার জন্য জীবিকা । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাউবো’র উচ্ছেদ নোটিশ ও মাইকিং শুনে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে এক অমানিশার ঘন অন্ধকার। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ। উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামের ভূমিহীন দাউদ বিশ্বাস সহ আরো অনেকেই
কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের এই যায়গা আরএস রিকোর্ট অনুযায়ী ১৯৮৮ সালে বন্দোবস্ত দিয়ে যদি আবার পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের যায়গা খনক করে নেয় তাহলে আমরা কোথায় যাব? খাবো কি৷ আমাদের থাকার মতো এমনকি চাষ যোগ্য কোনো জায়গা নেই। সন্তান-সন্ততি, স্ত্রীকে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে৷
এই আর্তনাদ শুধু , এটি শত শত পরিবারের হাহাকার। যেখানে দিনের পর দিন শ্রমজীবী মানুষগুলো অর্ধাহারে অনাহারে থেকে চাষ যোগ্য যায়গা করে নিয়েছিল নদীর চর৷ আজ সেই জায়গাটুকু হারানোর ভয়ে তারা অস্থির।
অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড যে খনন অভিযান চালাতে যাচ্ছে সেখানে শতশত ভূমিহীন পরিবারের অসহায় জীবন যাপন করতে হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূমিহীন পরিবারগুলো ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত জমা দিয়েছে নদী খনন স্থগিত করার অনুরোধে। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তারা প্রতিদিন অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কাদিরপাড়া গ্রামের
মধু নামের একজন সচেতন মহল বলছেন, শুধু চিত্রা নদীর এই টুকু যায়গা নয় ফটকী ও চিত্রা নদী,ব্যাঙ নদী এবং কানুদার খাল সহ বিভিন্ন নদী খাল পাউবো’র অসংখ্য জায়গা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে কোনো উচ্ছেদ বা খনন অভিযান হয় না। তাহলে কেন শুধুমাত্র গরিব মানুষের এই যায়গাটুকুর উপর এমন নির্মম আঘাত নেমে আসছে?৷ আবার সরকার যায়গা দখল করার আগে এসব ভূমিহীনদের খতিপুরন দেওয়ার কথা অথচ তা না দিয়ে এসকেভেটর দিয়ে মাটি ভরাট করছে৷ এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বনি আমিন বলেন, “আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো৷ তবে ভুক্তভুগি যারা আছেন,তাদেরকে আমার কার্য্যালয়ে আসতে বলবেন৷
এবিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন,আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে মাগুরা জেলা প্রশাসক এর সাথে কথা বলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।