মেহেদী হাসান শিপলু, চৌগাছা (যশোর) স্টাফ রিপোর্টার-(Marua-মাড়ুয়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পাশ করেনি কেউ)-
চৌগাছার তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ আবারও উপজেলার সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এবারের এইসএসসি পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে কলেজ হতে ৮২ শতাংশ পাশ করেছেন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন শিক্ষার্থী। এমন ফলাফলে খুশি শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক। পাশের আনন্দ যখন কলেজে কলেজে তখন একটি কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থরা হয়েছেন হতাশ কারন তাদের কলেজ হতে একজনও পাশ করেনি।
চলতি বছরের এইসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষনা হয়েছে ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে চৌগাছার সুনামধন্য বিদ্যাপীঠ তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ উপজেলার সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ শিক্ষার্থী। বারবার চমক সৃষ্টি করা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ফলাফল হাতে পাওয়ার পর আনন্দে মেতে উঠেন। এবারের পরীক্ষায় তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ হতে ১৫৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের কথা থাকলেও পরীক্ষা দেয় ১৫০ জন। এরমধ্যে ১২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২টি কলেজ হতে পরীক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করেন। কিন্তু অধিকাংশ কলেজ কাংখিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। চৌগাছা সরকারী কলেজ হতে ২৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৬৬ জন, পাশের হার ৫৬ দশমিক ৮৫ জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন শিক্ষার্থী, এবিসিডি ডিগ্রী কলেজ হতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪৬ জন এবং পাশ করেছে ১৪৩ জন পাশের হার ৫৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিপিএি-১৬ জন, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ হতে পরীক্ষা দেয় ১৭৮ জন পাশ করেছে ১১৮ জন পাশের হার ৬৬ দশমিক ২৯ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ জন,সলুয়া আদর্শ কলেজ হতে ৫১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩৭ জন পাশের হার ৭৪ শতাংশ, জিপি-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাশাপোল এমএম কলেজ হতে ১১২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩৯ জন, পাশের হার ৩৪ দশমিক ৮২ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, এসএম হাবিবুর রহমান পৌর কলেজ হতে ৯৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩২ জন পাশের হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, জিসিবি আদর্শ কলেজ হতে ৬০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩৪ জন পাশের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়ে মাত্র ১ জন, হাকিমপুর মহিলা কলেজ হতে ৭ জন পরীক্ষা দেয় এবং পাশ করেছে ২ জন, পাশের হার ২৮ দশমিক ৫৭, জিপিএ-৫ নেই, জেএমএসকে কলেজ (স্বর্পরাজপুর) হতে ৩৯ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে মাত্র ২ জন পাশের হার ৫ দশমিক ১৩ এবং ডাঃ সাইফুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ (কাঠগড়া) হতে ২৪৮ জনন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ১৩৫ জন পাশের ৫৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী।
তবে একজনও পাশ করেনি মাড়–য়া ইউছুপ আলী খান স্কুল এন্ড কলেজ হতে। এই কলেজ থেকে ২৬ জন পরীক্ষা দেয় এবং দুঃখজনক হলেও সত্য ২৬ জনই ফেল করে।
প্রসঙ্গত, তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য যশোর-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশি বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জহুরুল ইসলাম কলেজটি প্রতিষ্টা করেন। তিনিই কলেজটির নামকরণ করেন তার রাজনীতির অভিভাবক যশোর উন্নয়নের রুপকার সাবেক সফল মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের নামানুসারে। সেজন্য কলেজের সুনাম বৃদ্ধিতে সে নিরালস ভাবে কাজ করেছেন। তার সুচিন্তিত মতামত ও কঠোর পরিশ্রমের কারনে কলেজটি অল্প দিনেই চৌগাছাবাসির কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। যশোর শিক্ষা বোর্ডে সেরা টপ টেনে তিনবার স্থান করেন এই বিদ্যাপীঠ আর অনেকবার হয়েছে উপজেলা সেরা। কিন্তু বিগত ফাসিস্ট সরকারের আমলে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজকে। সরকারী কোন সহযোগীতা পাইনি এমনকি একটি ভবনও মেলেনি কলেজের। তারপরও প্রতিষ্ঠাতা ও কলেজের অধ্যক্ষ হাল ছাড়েননি।
এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী শেখ তানজির আহমেদ, ঈসরাত জাহান আঁখি বলেন, আমাদের কলেজে পড়ালেখার মান অন্য যে কোন কলেজের থেকে ভিন্ন। অধ্যক্ষের কঠোর নজরদারী আর স্যারেদের ব্যাপক পরিশ্রমের কারনেই প্রতিবার এমন ফলাফল হয়, আমরা ভিষন আনন্দিত।
অভিভাবক শেখ কওছার আহমেদ বলেন, তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ সকলের আস্থার একটি বিদ্যাপিঠ হয়ে উঠেছে। আমার সন্তান দৃষ্টিনন্দন রেজাল্ট করেছে আমরা মহাখুশি।
কলেজের ইংরেজি প্রভাষক আলী কদর বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা নিজেদের সন্তানের মত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যে যেমন ভাবে বুঝতে অভ্যস্ত তাকে সে ভাবেই বোঝানো হয়। সকলের চেষ্টায় আমরা প্রতি বছর ভালো ফলাফল অর্জন করছি।
অধ্যক্ষ মনজুরুল আলম লিটু বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের একঝাক তরুন উদিয়মান শিক্ষকের প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সহযোগীতায় আমরা প্রতি বছরই ভাল ফলাফল করতে পারছি, ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করি।
কলেজের সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ আমাদের প্রানের একটি প্রতিষ্ঠান। এটি আমি প্রতিষ্ঠা করি এবং শুরু থেকেই কলেজ আলো ছড়াতে থাকে। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে আমরা সে ভাবে দেখাশুনা করতে পারেনি। এখন সুযোগ এসেছে মহান ব্যক্তির নামে গড়ে তোলা কলেজকে আমরা চৌগাছার অন্যতম একটি বিদ্যাপিঠে রুপ দিতে চাই। সেজন্য তিনি কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ঠদের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।