সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

যশোরে বল্লভপুর বাওড় থেকে কোটি টাকার মাছ লুট

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৭৫ বার পঠিত

রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার বল্লভপুর বাঁওড়ের ইজারাদার বল্লভপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাঁওড়টি দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁরা টানা চার মাস লুটপাট চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ ধরে নিয়েছেন।

 

সমিতির সদস্যরা ১২ ডিসেম্বর মাছ ধরতে বাঁওড়ে নামলে দখলদারেরা বাধা দেন। সেই সঙ্গে জেলেদের হিন্দুপাড়ায় মহড়া দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি এবং মাছ ধরার জাল ও নৌকা কেড়ে নেন। এতে করে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সদস্যরা।

 

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জিন্নাত আলী, আওয়ামী লীগ নেতা আইজেল হক, মিজানুর রহমান ও তাঁদের সহযোগীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার ছত্রচ্ছায়ায় গত জুন থেকে বাঁওড়টি দখলের চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চক্রটি বিএনপিতে ভিড়ে যায়। জিন্নাতের ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তাঁরা দাপট দেখাতে শুরু করেন। জিন্নাত আলী আওয়ামী লীগের নেতা হলেও তার আত্মীয় স্বজনদের অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা মিলে গত ৬ আগস্ট থেকে বাঁওড়ের মাছ লুট শুরু করেন।

 

সমিতির সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আসাদ ও জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সম্মতি নিয়ে ও প্রশাসনকে জানিয়ে ১২ ডিসেম্বর বাঁওড়ের মাছ শিকারের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ওই দিন সকালে আসাদের অনুসারী ও আত্মীয় বিএনপির কর্মী রুস্তম আলী, মশিয়ার রহমান, হুজুর আলী, সেলিম, মনিরুজ্জামানসহ ১৫-২০ জন সদস্যকে মাছ ধরতে বাধা এবং নৌকা ছিনিয়ে নেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নৌকাটি ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু ওই দিন রাতে তালা ভেঙে চারটি নৌকা নিয়ে যায় জিন্নাত ও আইজেলের ক্যাডার বাহিনী। এ ছাড়া মাছ ধরার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইজেলকে আটক করলেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

 

এ বিষয়ে কথা হলে চৌগাছা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। আমরা চাই এটার সঠিক তদন্ত হয়ে বিচার হোক।’

 

জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আসাদ বলেন, ‘আমি ন্যায়ের পক্ষে। দুই দিন আগেও চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বলেছি, নৌকা ও জাল উদ্ধার করে ফেরত দিতে। একই সঙ্গে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্যাতন করবে; তাঁকে শাস্তি দিতে হবে। সেটা আমার বাবা হলেও মাপ করা হবে না।’

 

যোগাযোগ করা হলে চৌগাছা থানার ওসি পায়েল হোসেন বলেন, বাঁওড়ের মাছ লুট বা ডাকাতির মামলা থানায় হয় না। মামলা আদালতের মাধ্যমে করতে হয়। বাঁওড়ে এখন স্থিতি অবস্থা বিরাজ করছে। দুই পক্ষকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর