রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে “অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র” যশোরের উদ্যোগে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আনন্দে মাতোয়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা। সবার মুখে আনন্দের ছাপ। দেখে বোঝার উপায় নেই, এদের মধ্যে কেউ কানে শোনে না, কেউ কথা বলতে পারেন না, আবার কারও স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়নি, কেউ আবার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, কেউ বা আবার ঠিকমত হাটতে পারেন না। তারুণ্যের উৎসব উদযাপন আয়োজনে এক অন্যরকম হাসি-উল্লাসের মধ্যে দিয়ে নিজেদের দিনটি অতিবাহিত করেছেন অটিজম ও এনডিডি শিশুরা।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আওতাধীন “অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র” শীর্ষক প্রকল্প নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাষ্ট যশোর কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, অটিস্টিক ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা আমাদের পরিবার ও সমাজেরই অংশ। অটিজম শিশুদের প্রতি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের সাথে তাদেরকে এক করলে চলবে না। সবসময় বিশেষভাবে তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। দেশের বিভিন্ন ক্লিনিক/হসপিটাল গুলোতে দেখা যায় সাধারণ রোগীদের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পূর্ণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে সিরিয়ালে বসে থাকতে হয়। এটা কোন ভাবেই কাম্য নয় তাদেরকে অগ্রধিকার দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, অটিজম শিশুদেরকে ভালোবাসতে হবে। তাদের জীবনের গতি পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবার সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। স্বপ্নীল পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে। কোন ভাবেই অটিজম শিশুদেরকে অবহেলা করা যাবে না। ওরাও সমাজের আর দশটা শিশুর মতো সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রাখে।
অনুষ্ঠানে যশোর সেবাদান কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো: লিটনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা কার্যালয় যশোরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহবায়ক রাশেদ খান প্রমূখ।
উক্ত অনুষ্ঠানে “অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র” যশোরের সেবাগ্রহীতা শতাধিক অটিজম শিশু ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন উৎসবে অংশগ্রহনে আপ্লুত হয়েছেন সেবাগ্রহীতা ও অভিভাবকরা।