সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

মাগুরা সোনালী ব্যাংকে গ্রাহকের ৮৭ লাখ টাকা গায়েব! তদন্তে নেমেছে কমিটি

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৯৫ বার পঠিত

শেখ ইলিয়াস মিথুন ,মাগুরা :

মাগুরা শহরের সোনালী ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি শাখা থেকে মোঃ টিটুল নামের এক গ্রাহকের চলতি হিসাব থেকে ৮৭ লাখ টাকা রহস্যজনকভাবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকের দাবি, তার অজান্তে এবং স্বাক্ষর জাল করে এই বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অভিযোগকারী মোঃ টিটুল মাগুরার ইসলামপুর পাড়ার বাসিন্দা ও উষা এস.সি. লিমিটেডের মালিক ও চেয়ারম্যান। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে সোনালী ব্যাংকের মাগুরা শাখায় (হিসাব নম্বর: ২৪১৪২০০০১৮৩৫২) একটি চলতি হিসাব রয়েছে। এই হিসাবে জমাকৃত ও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ছিল। কিন্তু তিনি কখনোই ওই একাউন্টের জন্য চেকবই গ্রহণ করেননি।

মোঃ টিটুল অভিযোগ করেন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি প্রতারকচক্র তার স্বাক্ষর জাল করে ধাপে ধাপে পুরো অর্থ তুলে নেয়। হিসাব খোলার সময় তিনি যে মোবাইল নম্বর (০১৬৮৫-৫৫৭৬৫৬) দিয়েছিলেন, তার পরিবর্তে অন্য একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে, যা তিনি কখনো ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানো বাধ্যতামূলক, অথচ ১০-২০ লাখ টাকার মতো বড় লেনদেনেও কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।

সোনালী ব্যাংক মাগুরা শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক দিয়ারুল আলম জানান, তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে এ শাখায় যোগদান করেন এবং ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে তিনি মোঃ টিটুলের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। অভিযোগে বলা হয়, টিটুলের কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই ব্যাংক চেকবই ইস্যু করেছে এবং জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

ব্যবস্থাপক জানান, ব্যাংকের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মোঃ টিটুল তার কন্যা সেলিনা আক্তার তিশাকে নোমিনি করে উক্ত হিসাব খোলেন। একই দিনে চেক বিতরণ রেজিস্টারে স্বাক্ষর ও প্রতিষ্ঠানের সিলসহ একটি ১০০ পাতার চেকবই ইস্যু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এই চেকবই থেকে মোট ৮টি চেকের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে মোট ৮৭ লাখ টাকা উত্তোলিত হয়েছে।

অন্যদিকে, টিটুল দাবি করেন, এই চেকবই এবং স্বাক্ষর তার নয়। তিনি বলেন, “ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় প্রতারকচক্র এই জালিয়াতি করেছে। আমি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যথায় আমি নিজেই আদালতে মামলা করব।”

তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ ট্রান্সফার করা হয়েছে মেসার্স রাজ এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে, যার মালিক মোঃ ফিরোজ হোসেন। তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে জনবল সরবরাহ করে থাকেন। ফিরোজ হোসেন জানান, টিটুলের সঙ্গে তার যৌথ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এবং যৌথ লেনদেনের ভিত্তিতে টিটুলের স্বাক্ষরিত চেক ব্যবহার করে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হতো। তার দাবি, জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সোনালী ব্যাংক ঝিনাইদহ প্রিন্সিপাল অফিসের এজিএম রশিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—সিনিয়র অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান ও অপূর্ব কুমার সাহা। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে । তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই বলা যাবে  আসল ঘটনা কি ”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর