শেখ ইলিয়াস মিথুন, মাগুরা ;
মানবদেহে বিভিন্ন প্রকার ক্যানসার হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার হওয়ার কারন যানা যায় না। তবে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে মানুষের শরীরের বাইরের জীবানুর মাধ্যমে হয়ে থাকে। বিশেষ করে যৌন সংক্রমনের মাধ্যমে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে। প্রতি বছর বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫১ জন নারী মারা যায়। তথ্য অনুযায়ী এক লক্ষ নারীর মধ্যে ১১ জন এই ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে এই জরায়ুমুখের ক্যান্সারের টিকা আবিষ্কারর হয়েছে, বর্তমানে সফলভাবে এই টিকা কাজ করছে । বাংলাদেশর নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে বর্তমান সরকার ৫ম শ্রেণির থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত কিশোরীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাগুরা জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ২৬৪ জন কিশোরীরকে এই টিকা দেওয়া হবে। বুধবার দুপুরে মাগুরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিভিল সার্জন ডা: মো: শামীম কবির এই তথ্য জানান।

সভায় সিভিল সার্জন ডা: মো: শামীম কবিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা:সুরফি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা: আম্বিয়া খাতুন ,মেডিকেল অফিসার এজাজ আহমেদ রসি,
প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: সাইদুর রহমান ,সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, সাংবাদিক শেখ ইলিয়াস মিথুন, গাউসুল আলম স্বাধীন, আশরাফুজ্জামান সাগর, এডভোকেট মনি সিদ্দিকী, আরাফাত হাসান, এস আলম তুহিন প্রমুখ ।
সভায় জানানো হয়,আগামী ২৪ অক্টোবর সারাদেশের মতো মাগুরায় জাতীয় এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে । এ বছর জেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪৬ হাজার ২৬৪ জন কিশোরীকে ইএইচপিভি টিকা দেয়া হবে । মোট ১ হাজার ৫৬টি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপর ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে চলবে এ টিকাদান কর্মসূচী । এ টিকাদান কর্মসূচীকে সফল করতে ২৮৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১ হাজার ৫৮৬ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে ।
সভায় আরো জানানো হয় , ২৪ অক্টোবর থেকে পৌর এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ সপ্তাহ ব্যাপী ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীদের এইচপিভি টিকা দেয়া হবে । এ জেলায় মোট ৪৬ হাজার কিশোরী হয়েছে । বিশ্বে জরায়ুমুখ ক্যান্সার বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান সরকার এ ক্যান্সারের টিকা অতি দ্রুততার সাথে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের দিতে চাই । সভায় আরো জনানো হয়,বৈশ্বিক ভাবে সাদারণত নারীরা যেসকল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তার মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার ৪র্থ সর্বোচ্চ । বাংলাদেশি নারীদের ক্ষেত্রে এটি ২য় সর্ব্বোচ । ২০২০ সালের তথ্য-উপাত্তনুসারে প্রতি বছর বিশ্বে ৬ লক্ষাধিক নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে ৩ লক্ষ মৃত্যুবরণ করেন । এর প্রায় ৯০ শতাংশ মৃত্যুই বাংলাদেশে ঘটে । এই মৃত্যুর হার কমাতে সচেতনতার পাশাপাশি সবাইকে টিকা দেওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়।