রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:
মহান বিজয় দিবস ঘিরে দুইদিনে ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালি মোকামে দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এবার সব রকমের ফুলের দাম চড়া হওয়ায় খুশি ফুলচাষীরা। এই অঞ্চলে বছর জুড়ে ফুলচাষ হলেও ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচমাস ফুলের ভরা মৌসুম।
পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে অতি তাপমাত্রা আর বর্ষার অতিবৃষ্টির কারণে ফুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফুলের দাম যদি এমন থাকে তাহলে তারা ক্ষতিপুষিয়ে নিতে পারবে।
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, শীতে কাকডাকা ভোরে গদখালি এলাকার চাষিরা তাদের ক্ষেতের তরতাজা ফুল নিয়ে হাজির হয় মোকামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী ও চাষিদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে মোকাম।
এদিন মোকামে প্রতি পিস গোলাপ ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মানভেদে প্রতি পিস জারবেরা ফুল ১৮ থেকে ২০ টাকায়, গ্লাডিওলাস ফুল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, রজনীগন্ধা ১০ থেকে ১২ টাকা পিস ও চন্দ্রমল্লিকা প্রতি পিস ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এদিন বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল গাঁদাফুলের। প্রতি হাজার গাঁদাফুল মানভেদে ৫শ টাকা থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, এ বছর সব ধরনের ফুলের দাম বাড়তি। বাজার দর এমন চাঙ্গা থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

নির্বাসখোলা গ্রামের ফুলচাষী তরিকুল হোসেন বলেন, গত দুইদিন বাজারে ফুল বিক্রি করেছি। দাম ভাল পেয়েছি। গাঁদাফুল প্রতি হাজার ৬শ টাকা ও গোলাপ প্রতি পিস ১২ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। যা স্মরণকালের মধ্যে বেশি দাম পাইছি।
এদিকে আরেক ফুলচাষী ও বিক্রেতা সোহানুর রহমান বলেন, আজকের বাজার খুবই ভাল। এমন বাজার থাকলে আমরা চাষিরা লাভবান হতে পারব। সব ধরণের ফুলের দাম বেশি হওয়ায় আমরা খুবই খুশি

পাইকারি ক্রেতা আল-আমিন হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেশি। সেই হিসেবে ফুলের দামও চড়া। বাজারে ফুলের সরবরাহ কম, কিন্তু চাহিদা বেশি। এজন্য ফুলের দাম চড়া হয়েছে। চড়া দামেই কিনছি।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই অঞ্চলের ফুলচাষীরা দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেছে। আশাকরি বাকি যেসময় আছে তাতে আরো এক কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের দিবস গুলোতে ফুলের বাড়তি চাহিদা উপলক্ষে কৃষকরা ফুল চাষ করেছেন। সব ঠিক থাকলে এই অঞ্চল থেকে এই মৌসুমে শত কোটি টাকার ফুল বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, যশোরে প্রায় ৬ হাজার কৃষক এক হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ১৩ ধরনের ফুল চাষ করে থাকেন।