জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার পাহাড় পুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আজাদ খন্দকার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। তিনি নিয়মিত অফিস করছেন,এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জনসভায় অংশ নিচ্ছেন এলাকায় সালিশ দরবারে অংশ নিচ্ছেন । পুলিশ প্রথমে চেয়ারম্যান আজাদ পলাতক বললেও এখন বলছেন তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন।কিন্ত ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ গত ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে অস্থায়ী জামিন পেলেও তার মেয়াদ ফেব্রুয়ারী মাসেই শেষ হয়ে যায়। পরে তিনি নিম্ন আদালতে হাজির হননি। স্থানীয় প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আজাদের বড় ভাই দুলাল খন্দকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার জেল খেটেছেন। স্বয়ং আজাদ চেয়ারম্যানও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জনশ্রুতি রয়েছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মামলা নাম্বার জি, আর, সদর ৭৪ /২৪ইং,জি আর, সদর ৬০/২৪ইং,জি আর, বিজয় নগর ১০/২৪ইং আজাদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা দেওয়া এবং গাড়ি ভাঙচুর সংশ্লিষ্ট তিনটি ভিন্ন মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলোর এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং জনসভায় অংশ নিচ্ছেন এলাকায় দেন দরবার করছে অফিস করছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, আজাদ চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। তার বড় ভাই দুলাল এই ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে পরিচিত। দুলালের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। আজাদ খন্দকার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
তবে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আছে এবং তদন্ত চলছে।
এব্যাপারে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খন্দকার জামিনে আছেন। তাই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধনা ত্রিপুরা জানান হাইকোর্টের আদেশে ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খন্দকার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে প্রশাসনের কোন কিছু করার নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে আজাদ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং মাদক ব্যবসার মূল উৎপাটন করা হোক। অন্যথায়, সমাজে আইনশৃঙ্খলার অবনতি আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
♦