সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

বাঞ্ছারামপুরে ফল ব্যবসায়ী হত্যা মামলায়-৩ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৬৬ বার পঠিত

জহির সিকদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর ফল ব্যবসায়ী মোঃ সাইদুর রহমান হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদান করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার( ১৩ ফেব্রয়ারী)সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) আয়েশা আক্তার সুমি এই আদেশ প্রদান করেন। সেই সাথে আসামীদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরশিবপুর গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে কাজল মিয়া
(৪৯), একই উপজেলার বাহেরচর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে রিপন মিয়া (৩২) ও নজরুল ইসলামের ছেলে রাসেল মিয়া- (৩০)।
রায় ঘোষনার সময় রিপন মিয়া ও কাজল মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও অপর আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেননা। পুর্ব থেকেই  রাসেল মিয়া পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরন ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, -২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর লঞ্চঘাট এলাকার মেঘনা নদী থেকে ফল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার একদিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। সাইদুর রহমান উপজেলার বাহেরচর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি উপজেলার করইকান্দি ফেরিঘাট এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি লোকমান মিয়া বাদি হয়ে একই বছরের-১ অক্টোবর রাসেল মিয়াকে আসামী করে বাঞ্ছারামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই আসামী রিপন মিয়া ও মোঃ কাজল মিয়ার সম্পৃক্ততা পেয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেন।
পরে বাঞ্ছারামপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মোঃ সালাউদ্দিন চৌধুরী মামলাটি তদন্ত করে আসামী মোঃ রাসেল মিয়া, রিপন মিয়া ও মোঃ কাজল মিয়াসহ তিন আসামীর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট)
দাখিল করেন।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামী রাসেল মিয়া ও কাজল মিয়া মামলার বিষয়ে  আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আসামীরা আদালতকে জানায়,তারা ফল ব্যবসায়ী মোঃ সাইদুর রহমানের নিকট বিশ হাজার টাকা পেতেন। সে টাকা না দেওয়ার কারনে তারা ক্ষুব্দ হয়ে সাইদুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন তারা। দায়েরকৃত মামলাটি পরে আদালত সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে মামলাটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় আসামী মোঃ রাসেল মিয়া, রিপন মিয়া ও মোঃ কাজল মিয়াকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। এসময় প্রত্যেককে- ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড ও প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ মিয়া বলেন,এই রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তারা আরো বলেন, ভবিষ্যতে সমাজে এ ধরনের খুন খারাপি বন্ধে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং  সমাজ থেকে অপরাধ প্রবনতা কিছুটা হলেও কমে আসবে।
অন্য দিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যডভোকেট মোশারফ হোসেন সামি বলেন, এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্দ। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমান হাজির করতে পারেনি বাদি পক্ষ। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর