মহসিন মোল্যা
শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ
প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে একটি পক্ষ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনির হোসেন (৪৮) সহ দুইজন আহত হয়েছেন। আহত ওই শিক্ষক বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নাকোল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মির্জা নাহিদ হাসান (৪২) আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির দায়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ গত ৩ আগস্ট প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। সাময়িক বরখাস্তের পর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মুনির হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ ৯ জনকে বিবাদী করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার নম্বর ১৪৭৪৩/২০২৫। প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত রিট পিটিশনটি শুনানির পর চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদেরকে উক্ত বরখাস্তের কারণ দর্শানোর জবাব চেয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রুল নিশি জারী করেন। অপরদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই শত শত লোকজন নিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে অফিস কক্ষে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনির হোসেনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় হামলার শিকার রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনির হোসেন বলেন, আমি অফিস কক্ষে বসে ছিলাম।সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে অফিস কক্ষে ঢুকে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান আমার মাথায় আঘাত করেন৷ এছাড়া নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বরিউল আলম খান ও সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেনের উপস্থিতে এ হামলা চালানো হয়। আমি ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বরিউল আলম খান বলেন, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ শত শত লোকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি এবং সাধারণ সম্পাদক হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করি। এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সেভ করে পুলিশ হেফাজতে পাঠাই।
এ ব্যাপারে জানতে শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল গনিকে মুঠোফোনে বারবার ফোন করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সাবেক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলে দেখা যায় তিনি প্রধান শিক্ষকের চেয়ারেই বসে আছেন। এবং তিনি জানান, হাইকোর্ট আমাকে চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই আমি আজ বিদ্যালয়ে ফিরে এসেছি। এখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ইদ্রিস আলী জানান, ঘটনার পর পরই খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।