শেখ ইলিয়াস মিথুন, মাগুরা :
আজ ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার মুক্ত হয় মাগুরা জেলা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে এবার মাগুরা মুক্ত দিবস পালন করছে মাগুরা প্রেসক্লাব।

এ দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের চৌরঙ্গী মোড় হয়ে কলেজ রোডের কদমতলা ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মাগুরা প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মো: ওয়ালিয়র রহমান, শরীফ তেহরান টুটুল প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব। একইসাথে ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস আমাদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অতীতে দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হলেও এবার স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচি নেই যা দু:খজনক। মাগুরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধার সাথে মাগুরার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে।
উল্লেখ্য, মাগুরাকে শত্রু মুক্ত করতে শ্রীপুরের আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বাধীন শ্রীপুর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মহম্মদপুর-ফরিদপুর অঞ্চলের মাশরুরুল হক সিদ্দিকী কমল বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী এবং লিয়াকত হোসেনের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক সাহসী ভূমিকা নিয়ে পাক সেনা ও স্থানীয় রাজাকার আল বদর বাহিনীর সাথে প্রাণপণ যুদ্ধ করে। মিত্র বাহিনীর বিমান হামলা ও গেরিলা বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণের মুখে পাক বাহিনী ৭ ডিসেম্বর মাগুরার থেকে ফরিদপুরের দিকে পিছু হটতে শুরু করে।