সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শালিখায় ট্রাকে ভ্যানকে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাগুরায় ২ কেজি গাঁজাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেফতার শ্রীপুরে জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শ্রীপুরে রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি রেজভী আহমেদ মাগুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড মাগুরায় বিএনপি নেতা মশিয়ার হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব ও এসআই ইসমাইল কারাগারে মাগুরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনাসভা  মাগুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে মাগুরায় ছাত্রশিবিরের পোস্টারিং মাগুরায় সুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

নিজে গাড়ি চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত চালককে বাড়ি পৌঁছে দিলেন জেলা প্রশাসক

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৭৯ বার পঠিত

রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি:

হাবিবুর রহমান দীর্ঘ ৪০ বছর কর্মরত ছিলেন যশোর জেলা প্রশাসকের পরিবহণ পুলে। কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি জেলা প্রশাসকের গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। এদিন তাকে জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেয়। পরে যশোর কালেক্টরেট চত্বর থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাবিবুর রহমানকে তার বাড়ি পৌঁছে দেন জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। এ সময় গাড়ির ভেতরে প্রশাসকের আসনে বসেন হাবিবুর রহমান। একজন গাড়িচালকের বিদায় বেলায় এমন দৃষ্টান্তে প্রশংসায় ভাসছেন জেলা প্রশাসক। এভাবে সম্মানিত হতে পেরে আবেগাপ্লুত হাবিবুর ও তার স্বজনরাও।

 

সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মচারী হিসাবে পরিচিত হাবিবুর রহমান ১৯৮৫ সালে যশোর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে যোগ দেন। ২০২২ সালে জেলা পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। জেলার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির নীরব সাক্ষী তিনি। তার পৈতৃক বাড়ি যশোর শহরের মিশনপাড়া এলাকায়।

 

হাবিবুর রহমান বলেন, ৪০ বছর ধরে আমি জেলা প্রশাসক স্যারদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছি। কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসক এভাবে আমাকে সম্মানিত করবেন। এ ঘটনা জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। আনন্দে আমি কেঁদে ফেলেছি। পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে আমার সম্মান অনেকগুণ বেড়ে গেছে। অধস্তন কর্মীদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয়, সেটা ডিসি স্যারকে দেখে সবার শেখা উচিত।

 

হাবিবুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনায় জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, সততা ও নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীনতার যে দৃষ্টান্ত হাবিবুর স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই বিরল। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তি ও চাকরি জীবনে হাবিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি গাড়িচালকদের সততার দৃষ্টান্ত : সরকারি কর্মকর্তা যাদের গাড়ি রয়েছে তাদের গাড়িপ্রতি মাসে ১৮০ লিটার তেল বরাদ্দ থাকে। বেশিরভাগ চালকের বিরুদ্ধে এই তেল লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে বরাদ্দের দ্বিগুণ পর্যন্ত তেল তুলে থাকেন তারা। কিন্তু হাবিবুর রহমান তার বরাদ্দের তেলেই মাস শেষ করতেন।

 

যশোরের সাবেক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, সাধারণ গাড়িচালকরা তেল চুরি করাটাও পেশা হিসাবে ধরেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন হাবিবুর রহমান। উনি যশোরের মতো একটি বড় জেলার জেলা প্রশাসকের গাড়িচালক। ব্যস্ততম জেলা যশোরের ডিসি স্যারকে পুরা জেলায় চলাচল করতে হয়। অথচ তার গাড়িতে যা তেল লাগে এটা অবিশ্বাস্য। তিনি যতটুকু তেল লাগে ততটুকুই তেল নেন। গাড়িচালকদের ট্রেনিংয়ে সততার উদাহরণ দেখাতে হাবিবুর রহমানকে নিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি সরকারি গাড়িচালকদের সততার দৃষ্টান্ত।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর