রাইসুল ইসলাম অপু ,যশোর প্রতিনিধি :
যশোরে কর্মব্যস্ত দিন পার করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর। বৃহস্পতিবার বিকালে যশোর সার্কিট হাউসে জুলাই বিপ্লবে আহত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এর আগে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান ডা. আবু জাফর। সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত যশোরের বেনাপোলে আব্দুল্লাহর বাড়ি যান তিনি।
যশোর সিভিল সার্জন অফিস আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, জুলাই বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসায় কোনো রকম অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। কেবল অবহেলা না, কোনো রকম হয়রানির খবর পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অধিদফতর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রহণ করবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছে এদেশের মানুষ। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য শ’ শ’ শিক্ষার্থী বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থী হাত, পা, চোখ হারিয়েছে। হাসপাতালে দেখতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। তারপরও তারা হাসিমুখে কথা বলছে। এ সকল যুবকের অনেক আক্ষেপ রয়েছে। তাদের সেসব আক্ষেপ মেটাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে আহতদের ব্যাপারে দরদি হতে হবে। হাসিমুখে সেবা দিতে হবে। এসব আহতরা যাতে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি কিংবা অবজ্ঞার শিকার না হয় সেদিকে সকলকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘যশোর মেডিক্যাল কলেজের সাথে হাসপাতাল করার দীর্ঘদিনের দাবি এখানকার মানুষের। এ হাসপাতালের বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়েছে। এ প্রকল্প বর্তমানে কেবিনেটে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। কেবিনেটে পাস হলেই কাজ শুরু হবে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলা পর্যন্ত লিফট চালুর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডাইরেক্টর (হাসপাতাল) ডা. আবু হোসেন মো: মঈনুল আহসান ও খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনজুরুল মুর্শিদ, সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান, ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তত্বাবধায়ক হারুন-আর-রশিদ। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এ আগে তিনি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। একই সাথে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।