মেহেদী হাসান শিপলু, স্টাফ রিপোর্টার যশোর-
যশোরের চৌগাছা বাজারে আবারও চুরি। বুধবার সকাল সাতটা হতে সাড়ে সাতটার মধ্যে বাজারের ৬টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতে গোটা বাজার এলাকাতে পাহারাদার জোরদার করায় চোরচক্র ভোরে চুরির সময়টা বেছে নিয়েছে অভিমত অনেকের। শীতের কারনে ব্যবসায়ীরা কিছুটা বিলম্বে দোকানে আসছেন এবং
পাহারাদাররা চলে যাচ্ছেন বাসায় এই সুযোগটি মুলত কাজে লাগাচ্ছে চোরচক্র। থেমে থেমে চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা শংকিত। দ্রুত চোর শনাক্ত এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার সকাল ৮ টা ১০ মিনিটের দিকে বাজারের চৌগাছা সিটি প্লাজা
মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে
যেয়ে দেখেন দোকানের সাটার বাকা। তখনই তিনি চুরির বিষয়টি বুঝতে
পারেন। সাটার খুলে দোকানে প্রবেশ করে দেখেন সব কিছুই ঠিক আছে
শুধু মাত্র ক্যাশ ভেঙ্গে ক্যাশে রাখা ৩৪ হাজার টাকা চোরেরা নিয়ে গেছে। এ
খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রæত ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আসেন এবং দেখেন
একাধিক দোকানে একই পন্থায় চুরি সংঘঠিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৌগাছা সিটি প্লাজা মার্কেটের সুপার
লিবার্টি দোকান থেকে ২৫ হাজার, টপ সপ দোকান হতে ২১ হাজার, নুর
জাহান বার্মিজ ফ্যাশান হতে ৩৪ হাজার, লক্ষী কসমেটিক্ধসঢ়;্র দোকান হতে
১২শ টাকা, সাজ ঘর বিউটি পার্লার হতে ৩শ টাকা এবং মাধব স্টোর হতে ৪
হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, চোরেরা ওই মার্কেটের সিড়ির ভেন্ডিলেটর
ভেঙ্গে মাকের্েেট প্রবেশ করেছে এবং প্রতিটি দোকানের সাটার লোহার
রড বা শক্ত কিছু দিয়ে বাকা করে দোকানে ঢুকে প্রত্যেক দোকানের ক্যাশ
ভেঙ্গে যেখানে যে টাকা পেয়েছে সব নিয়ে গেছে তবে কোন পন্য
সামগ্রীতে তারা হাত দেয়নি। দোকানের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে
চোরেরা মুখোশ পরে দোকান গুলোর ক্যাশ ভেঙ্গে টাকা বের করে নিচ্ছে। গত
নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের তিন তারিখ পর্যন্ত বাজারের একাধিক দোকানে
চুরি সংঘঠিত হয়েছে। এরমধ্যে দুই দিন চুরি হয়েছে সকালে সূর্যের
আলো ফুটার সাথে সাথে। একের পর এক চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা
দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন কি ভাবে তারা চুরির হাত থেকে রক্ষা পাবেন তা ভেবে
ব্যাকুল।
ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম, হচেন আলী, খাইরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম
বলেন, হঠাৎ করেই চৌগাছা বাজারে চোরের ব্যাপক উৎপাৎ বেড়ে গেছে।
রাতে নৈশ প্রহরীরা কঠোর ভাবে পাহারা দেয়ায় চোরেরা সকালে দোকানদাররা
আসার আগেই চুরি করছে। এ সময় বাজারে লোকসমাগম কম থাকে যাদের
চোখে পড়ছে তারা মনে করছেন হয়ত ব্যবসায়ী তার নিজের দোকান খুলছে।
এই অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রান পেতে চাই। তারা বাজার ব্যবসায়ী
সমিতিসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন,
আগে দেখেছি রাতের আধারে গলির ভিতরের দোকানে বিচ্ছিন্ন ভাবে চুরি
হতে আর এখন সেটি মেইন মেইন সড়কের পাশে দিনের আলোতে চুরি
হচ্ছে। এটি কোন চক্র তা খুজে বের করা জরুরী, আমি খবর পেয়ে ছুটে
এসেছি এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি।
সমিতির সভাপতি সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার বলেন, শুধুই কি
চুরি না এর পিছনে অন্য কোন কিছুর হাত আছে সেটি নিয়ে আমরা
কাজ করছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হচ্ছে চোর সনাক্ত
হলে অবশ্যই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
