রাইসুল ইসলাম অপু,যশোর প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছা থানার বহুল বিতর্কিত ওসি পায়েল হোসেনের পরকিয়ার অশ্লীল অডিও এবং ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সেই অডিও এবং ভিডিওতে ওসি পায়েল হোসেন এবং উপজেলার একজন মহিলার গভীর প্রেমালাপা এবং শরীর প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) এই ওসির চাঁদাবাজি নিয়ে একাধিক স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে ওসির সাথে সম্পর্কের বিষয়টি ওই মহিলা সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, আমি তালাকপ্রাপ্ত তাই ওসি পায়েল আমাকে বিভিন্ন সময়ে ফোন করে থানায় ডাকতো। এবং বিভিন্নভাবে জোর জবরদস্তি করতো। একদিন ওসি তার অফিস রুমের বাথরুমে নিয়ে তাকে জোর করে চুমু দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে অপর একটি অডিওতে ওসির সাথে তাকে রোমান্টিকভাবে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে ওই মহিলা ওসিকে “তুমি” বলেও সম্বোধন করেন। সেখানে ওসি তাকে আসতে বললে সে খালার বাড়ি আছে বলে জানায়। এবং কথাবার্তার এক পর্যায়ে ওসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ আমি তোমার কাছে থাকবো না তো কি বাবুর কাছে থাকবো”।
এছাড়া ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে ওসি হাসতে হাসতে তাকে নিজের গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করেন। তবে ওসি তাকে ভয় দেখিয়ে এসব করতো বলেই ওই মহিলা দাবী করেন।
জানা যায় গত সেপ্টেম্বর মাসে ওসি পায়েল হোসেন শিল্প পুলিশ থেকে বদলি হয়ে চৌগাছা থানার দায়িত্ব গ্রহন করেন। থানায় যোগদানের পর থেকেই টাকার জন্য হন্যে হয়ে উঠেন।
প্রথমে অভিযানেই তিনি চৌগাছা বাস মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিনের বাড়ি সারারাত অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরের দিন সকালে জসিম উদ্দিনের স্কুল পড়ুয়া ছেলে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে বাড়ির বাইরে এলে থানার পুলিশ সদস্যরা তার গাড়ি আটক করে তল্লাশি শুরু করে। এসময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ছেলেটির পরীক্ষার কথা বার বার বলতে থাকলেও প্রায় ৪৫ মিনিট সেই গাড়ী তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করে তবেই তাকে যেতে দেয়। এরপরে ওসি জসিম উদ্দিনের কাছে ১ কোটি টাকা দাবী করেছিলেন বলে জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন।
এরপরে তিনি ৩ নং সিংহঝুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদ মল্লিককে গ্রেফতার করে ২০ লাখ টাকা দাবী করেছিলেন। চেয়ারম্যান টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় আদালতে প্রেরন করা হয়। কিছুদিন পরে হামিদ মল্লিক জামিনে বেরিয়ে গ্রেফতারের সময় থানায় জমা রাখা তার মুঠো ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আনতে গেলে ওসি পায়েল তাকে থানার সেকেন্ড অফিসার মেহেদী হাসানের রুমে নিয়ে আবারো টাকা দাবী করেন। সেসময়ও চেয়ারম্যান টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওসি পায়েল তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
চৌগাছা বাজারের অপরএক ব্যবসায়ি জসিম উদ্দিন ওরফে জাল জসিমকে থানায় ডাকিয়ে প্রতিমাসে ৪ লাখ টাকা হিসেবে ৬ মাসের অগ্রিম দাবী করেন। জসিম সেই টাকা দিতে অস্বীকার করে চৌগাছা থেকে বিতাড়িত হন। জীবন ইলেকট্রনিক্সের মালিক জীবন খান লিপুর কাছেও ওসি ২ লাখ টাকা দাবী করেন। এবিষয়ে জীবন বলেন ওসি আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাদা চেয়েছিলেন। আমি এক লাখ টাকা দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি আরো এক লাখ টাকার জন্য আমাকে বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করে হুমকি দিতে থাকেন। এবং আমাকে ও অন্য আরো একজনের ছবি দিয়ে পোষ্টার বানিয়ে থানার দেওয়ালে টাঙ্গিয়ে দেন। সেখানে তাদেরকে তিনি দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রমান স্বরুপ প্রতিবেদককে জীবন তার এবং ওসির কথাবার্তার অডিও রেকর্ডিং দেন ও স্থির চিত্র দেন।
কিছুদিন আগে উপজেলার মাসিলা গ্রাম থেকে সোহাগ নামে একজনকে মটরসাইকেল চুরির অপরাধে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। সেই সোহাগকে ৩২ ঘন্টা আটকে রেখে কারেন্ট শকসহ নানা রকম অত্যাচার করাবস্থায় তার মায়ের কাছে মোবাইলে সোহাগের চিৎকার শোনান। এবং ২ লাখ টাকা দাবী করেন। পরে দেড় লাখ টাকা দিলে সোহাগকে তিনটি মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেন।
এছাড়া উপজেলায় মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু উত্তোলনে, ইট ভাটার মাটি কাটার চুক্তিসহ নানান অপকর্মের চুক্তি সরাসরি ওসির সাথেই করতে হতো। অন্য কোনো পুলিশ সদস্যে এসবের বাইরে গেলে তাকে থানা থেকে বদলি হয়ে যেতে হতো।
এদিকে ফাঁস হওয়া অডিও ভিডিও বিষয়ে ওসি পায়েল হোসেন বলেন, আমাকে ট্রাপে ফেলা হয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। দয়া করে এবারে মতো আমাকে ক্ষমা করে দেন।