চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ
যশোরের চৌগাছার বিভক্তি প্রেসক্লাব হতে সংবর্ধনা গ্রহন করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আয়ুব ভুঁইয়া। উপজেলায় আরও একটি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাব থাকলেও তাদের কোন সাংবাদিককে সেখানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিভক্ত ওই প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর জানান এখানে আমােেদর কিছু বিচ্যুতি আছে যার কারনে এমনটি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বহু বিতর্কিত সরকারী হাইস্কুলের একটি ঘরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌগাছা পৌর টাওয়ার লাইট চত্ত¡রে সরকারী শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঘরকে নিয়ে গড়ে উঠা চৌগাছার একটি প্রেসক্লাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আইয়ু ভুঁইয়াকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন ওই ক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। যে ক্লাবের অধিকাংশই জামায়াত অনুসারী সাংবাদিক এমনকি জামায়াতের দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠ একাধিক সাংবাদিক আছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভক্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য ও কলামিষ্ট ফোরামের মহাসচিব মীর আব্দুল আলিম, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির সদস্য জহুরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী চৌগাছা শাখার সেক্রেটারী অধ্যাপক মাওঃ নুরুজ্জামান আল মামুন, সহকারী সেক্রেটারী মাষ্টার কামাল আহমেদ ও সহকারী সেক্রেটারী এবং প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি রহিদুল ইসলাম খানসহ জামায়াত ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ।
এ দিকে চৌগাছার তিনটি সাংবাদিক সংগঠন থাকলেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক একটি সংগঠনের দাওয়াতে সেখানে উপস্থিত হওয়ায় অন্য সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। হতাশা ব্যক্ত করেছেন উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সচেতন মহল।
প্রসঙ্গত, চৌগাছায় মোট দুইটি প্রেসক্লাব ও একটি রিপোর্টার্স ক্লাব বিদ্যমান। একটি প্রেসক্লাবে নেতৃত্বে আছেন (যেখানে সংবর্ধনা নিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক) জিসিবি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর ও আজিজুর রহমান। এই সংগঠনের জন্ম থেকে নেতৃত্ব ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বহুল আলোচিত জিয়াউর রহমান রিন্টু আর দায়িত্বশীল পদে ছিলেন আবু জাফরসহ অন্যরা। ৫ আগষ্টের পর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জিয়াউর রহমান রিন্টু আত্মগোপনে গেছেন কিন্তু তার অন্য সদস্যরা সংগঠনটি টিকিয়ে রেখেছেন। অপর প্রেসক্লাবের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন দৈনিক যশোর বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক অধ্যক্ষ শিহাব উদ্দিন এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার চৌগাছা প্রতিনিধি মুকুরুল ইসলাম মিন্টু। আর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দৈনিক সত্যপাঠ পত্রিকার চৌগাছা প্রতিনিধি, প্রধান শিক্ষক শওকত আলী আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন দৈনিক যশোরের চৌগাছা প্রতিনিধি ও নিভৃত্বচারীর প্রকাশক ও সম্পাদক এম হাসান মাহমুদ। এই দুটি সংগঠনের একজন সাংবাদিককেও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হয়নি। ফলে চরম ক্ষুব্ধ চৌগাছার গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবু জাফরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নানা কাজে প্রায় ঢাকাতে যায়। সময় পেলেই জাতীয় প্রেসক্লাবে যেতাম এবং সাধারন সম্পাদক মহোদয়কে চৌগাছায় আসার আমন্ত্রন জানাতাম। সেই আলোকে তিনি বৃহস্পতিবার এসেছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে আমাদের মাঝে কিছুটা গ্যাপ তৈরী হয়েছে এটি আসলেই ভুল হয়েছে। চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে ফোনে পাওয়া না গেলেও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান বলেন, আমাকে ওরা দাওয়াত দিয়েছিলো কিন্তু কাজ থাকায় যেতে পারেনি।