আলী হোসেন বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বিজয়নগর: রাষ্ট্রীয় শোকে মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
শোক দিবসের মর্যাদা লঙ্ঘন ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা
জাতি যখন গভীর শ্রদ্ধার সাথে জাতীয় শোক পালন করছে, তখন চম্পকনগর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন আচরণ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শোক দিনে সকালে বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীকে উপস্থিত দেখা যায়নি। এমনকি জাতীয় পতাকাও অর্ধনমিত করা হয়নি, যা রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অন্যতম অপরিহার্য অংশ। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবহেলাই নয়, বরং জাতীয় দিবসের প্রতি চরম উদাসীনতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষকের ফোন বন্ধ: জবাবদিহিতার প্রশ্ন
এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়ার কথা, সেখানে বিদ্যালয়ের প্রধান ব্যক্তির এমন আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষকরাই যদি জাতীয় শোক গুরুত্ব না বোঝেন এবং শিক্ষার্থীদের সামনে এর সঠিক বার্তা তুলে না ধরেন, তাহলে নতুন প্রজন্ম কীভাবে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হবে? একজন অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “যেখানে সারা দেশে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শোক পালিত হচ্ছে, সেখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অবহেলা এবং প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বহীনতা মেনে নেওয়া যায় না।”
দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি
সচেতন মহল মনে করছে, এমন গুরুতর অবহেলার জন্য দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই ঘটনা শুধু বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং জাতীয় ভাবাবেগকেও আঘাত করেছে। স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।