জহির সিকদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাঃ
০৯ অক্টোবর বুধবার থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু হয়েছে।
বছর ঘুরে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পূজা মণ্ডপগুলো সেজেছে এক বর্ণিল সাজে । বেশিরভাগ মন্দিরে প্রতিমা, লাইটিং ও গেট প্যান্ডেলে আধুনিকতার ছোয়া লক্ষ্য করা গেছে ।
৯ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এ লক্ষ্যে আশুগঞ্জ উপজেলার ০৮ টি ইউনিয়নে সর্বমোট. ১৩ টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মন্দির কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পূজা মণ্ডপ ঘিরে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আশুগঞ্জ শাখা কর্তৃক জানানো হয়েছে উপজেলায় মোট( ১৩টি) মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চরচারতলা ইউনিয়নে০৩টি, সদর ইউনিয়নে০৪টি, লালপুর ইউনিয়নে ০৬টি,
তালশহর ইউনিয়নে ০১টি সহ মোট ১৩ টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আশুগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক নিতাই চন্দ্র ভৌমিক বলেন, আশুগঞ্জের মানুষ সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী।
এখানে জাতি, ধর্ম,বর্ন নির্বিশেষে সকলেই শারদীয় দুর্গা উৎসব পালন করে আসছি।আমরা উৎসব কে উৎসবমুখর করার জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সাথে প্রস্তুতিমূলক সভা সম্পন্ন করেছি।
উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি এবং পূজার প্রস্তুতি খুবই ভালো। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া দুর্গাপূজা রোববার ১৩ অক্টোবর দশমী তিথি প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনব্যাপী এ শারদীয় দুর্গোৎসব।
এ বছর দোলায় অর্থাৎ পালকিতে চেপে দেবীদুর্গা মর্ত্যলোকে পদার্পণ করবেন। আবার গজে অর্থাৎ হাতিতে চড়ে কৈলাসে ফিরবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার ০৯ টি উপজেলায় ৫২২টিমন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে সদরে ৭৩টি, আশুগঞ্জে১১টি, সরাইলে ৪১ টি, নাসিরনগরে ১২৭টি, কসবায়৪১টি, আখাউড়ায়২১ টি, নবীনগরে১১৪টি, বাঞ্চারামপুরে৩৯টি, বিজয়নগরে ৪৪টি মন্ডপে দুর্গার্পজা অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বলেন, এ বছর পৌর এলাকায় পুজা মণ্ডপগুলোতে পূজার আয়োজন হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূজা সুষ্ঠু ও নিরাপত্তার জন্য সরকারি ভাবে যে নির্দেশনা থাকবে তার বাইরে স্বেচ্ছাসেবক দল ও আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনসার রাখা হবে। পাশাপাশি পৌর কমিটির পক্ষ থেকেও মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহিম জানান, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে চারধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করবে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সবার সহযোগিতায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যদিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে এবারের দুর্গাপূজা এমনটাই আশা করছেন তিনি। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবীদুর্গা দশদিন ধরে অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। হিন্দু পঞ্জিকার সপ্তম মাসে এই যুদ্ধ শেষে দেবী দুর্গা মহিষাসুর নামে নির্দয় অসুর রাজকে বধ করেছিলেন। যার মাধ্যমে অত্যাচার থেকে মুক্তি মিলেছিল ও অশুভের ওপর শুভ শক্তি স্থাপিত হয়েছিল।